এক বছরে ই-রিটার্ন বেড়েছে তিন গুণ; দাখিল ৩০ লাখের বেশি 

এক বছরে ই-রিটার্ন বেড়েছে তিন গুণ; দাখিল ৩০ লাখের বেশি 
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০০:২৬  

চলতি ২০২৫-২৬ করবর্ষে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন এবং প্রায় ৪৫ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

গত বছর একই সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন ১০ লাখ ২ হাজার ২৯৮ জন করদাতা। পরিসংখ্যান বলছে, আগষ্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসে এক লাখের মতো ই-রিটার্ন দাখিল বেড়েছে। শুধু নভেম্বরের বেড়েছে ৫ লাখের বেশি। বছরের শেষ মাসে এসে অনলাইনে করদাতাদের অংশগ্রহণ এক বছরেই তিন গুণ বেড়েছে বলে স্পষ্ট চিত্র ফুটে এসেছে।

অনলাইনে কর ব্যবস্থাকে সহজ ও করবান্ধব করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগে করদাতাদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এনবিআরের সর্বশেষ হালনাগাদে এই জানা গেছে। 

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৫ মাসে ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৩ লাখ ১ হাজার ৩০২ জন, অক্টোবর মাসে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬ জন, নভেম্বর মাসে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন এবং ডিসেম্বর মাসে শেষ নাগাদ প্রায় ১০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। 

এদিকে করদাতাদের সুবিধার্থে সরকার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে চলতি কর বছরে ৪০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের জন্যও অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। যদিও তাদের ক্ষেত্রে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক নয়, তবে পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ করে [email protected] ঠিকানায় আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ই-মেইলে ওটিপি ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত করদাতারাও সহজেই ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। একইভাবে করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরাও চলতি বছরে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন।

ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করদাতা এবং তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি—আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও চার্টার্ড সেক্রেটারিদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় করদাতারা এনবিআরের কল সেন্টার ০৯৬৪৩-৭১-৭১-৭১ নম্বরে ফোন করে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাচ্ছেন। পাশাপাশি www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের eTax Service অপশন ব্যবহার করে লিখিতভাবে সমস্যার কথা জানানো এবং সারাদেশের কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্পডেস্ক থেকে সরাসরি সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এর আগে, গত ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একটি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ব্যতীত অন্যান্য সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, যাদের জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক নয়, তারাও স্বেচ্ছায় অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যক্তি শ্রেণির সকল সম্মানিত করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীতভাবে আহ্বান জানিয়েছে।
ডিবিটেক/ডিএম/ইক