প্রাণিসম্পদে গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে সার্ক বিশেষজ্ঞদের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ শুরু

প্রাণিসম্পদে গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে সার্ক বিশেষজ্ঞদের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ শুরু
২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৩০  

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাণিসম্পদ খাত থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাস এবং জলবায়ু-বান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী ও উন্নয়নকর্মীদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী একটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর, সোমবার ( ২০২৫) ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার (এসএসি)।

‘দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাণিসম্পদ খাত থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিরূপণের ইনভেন্টরি উন্নয়ন এবং উপযুক্ত খাদ্য কৌশলের মাধ্যমে তা প্রশমনের কৌশল’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো- প্রাণিসম্পদ খাতের নির্গমন পরিমাপের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত প্রশমন উদ্যোগ গ্রহণে দেশগুলোকে সহায়তা করা।

উদ্বোধনী ও স্বাগত বক্তব্যে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মো. হারুনুর রশীদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও গ্রামীণ জীবিকায় প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে এই খাত মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের উৎস। তিনি বলেন, “উৎপাদনশীলতা অক্ষুণ্ন রেখে পরিবেশগত প্রভাব কমাতে হলে নির্ভরযোগ্য নির্গমন ইনভেন্টরি ও বিজ্ঞানভিত্তিক খাদ্য হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্ক ও বিমসটেক বিষয়ক মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে জলবায়ু-স্মার্ট প্রাণিসম্পদ চর্চার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কৌশল সাজাতে হবে, একই সঙ্গে ক্ষুদ্র খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়ন তহবিল (এআরডি ও এসডিএফ) বিষয়ক পরিচালক তানভীর আহমদ তোরফদার। তিনি জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে সার্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ আঞ্চলিক জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে অতিথি অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (আইসিএআর) সহকারী মহাপরিচালক (অ্যানিম্যাল নিউট্রিশন অ্যান্ড ফিজিওলজি) ড. এ কে সামন্ত। তিনি প্রাণিসম্পদ পুষ্টি গবেষণাকে জাতীয় গ্রিনহাউস গ্যাস ইনভেন্টরি ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের আইসিএআর–ন্যাশনাল ডেইরি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কারনালের প্রধান বিজ্ঞানী ড. নিতিন ত্যাগী। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাণিসম্পদ খাত থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, ক্ষুদ্র খামার-নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, নিম্নমানের খাদ্য সম্পদ এবং পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত গবেষণা ও নীতিগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশিক্ষণের সার্বিক কাঠামো ও লক্ষ্য তুলে ধরেন এসএসি’র সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনুস আলী। তিনি জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের গ্রিনহাউস গ্যাস ইনভেন্টরি তৈরির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি, বিশেষ করে আন্তঃসরকারি জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি) প্রস্তাবিত পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করা হবে।

আয়োজকদের মতে, এই আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে প্রাণিসম্পদ খাতে পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই উন্নয়ন পথরেখা প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ডিবিটেক/এমএবি/এইচআই