শারদীয় উৎসবের রঙে ঘর সাজানো

শারদীয় দুর্গোৎসব কিংবা কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সময় ঘরকে সুন্দর ও উৎসবমুখর করে তুলতে বাজার চলতি আধুনিক ডেকোরেশন সামগ্রীর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী নানা অনুষঙ্গ ব্যবহার করা যায়। সুনির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে খুব সহজেই ঘরকে নান্দনিক রূপ দেওয়া সম্ভব, যা পুরো বাড়িতে এক জাদুকরী উৎসবের আমেজ বয়ে আনে। উৎসবের ঘর সাজানোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী উৎসবের মরসুমে ঘর […] The post শারদীয় উৎসবের রঙে ঘর সাজানো first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

শারদীয় উৎসবের রঙে ঘর সাজানো
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০  

শারদীয় দুর্গোৎসব কিংবা কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সময় ঘরকে সুন্দর ও উৎসবমুখর করে তুলতে বাজার চলতি আধুনিক ডেকোরেশন সামগ্রীর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী নানা অনুষঙ্গ ব্যবহার করা যায়। সুনির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে খুব সহজেই ঘরকে নান্দনিক রূপ দেওয়া সম্ভব, যা পুরো বাড়িতে এক জাদুকরী উৎসবের আমেজ বয়ে আনে।

উৎসবের ঘর সাজানোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী

উৎসবের মরসুমে ঘর সাজানোর জন্য প্রথমেই একটি চমৎকার শপিং লিস্ট তৈরি করে নেওয়া দরকার। ঘরের অন্দরমহলে জাদুকরী আলো ছড়ানোর জন্য ওয়ার্ম হোয়াইট টুনি লাইট, ঝাড়বাতি, এলইডি স্ট্রিপ লাইট, মেটাল বা মাটির দিয়া কিংবা ভাসমান মোমবাতি সংগ্রহ করতে পারেন। এ ছাড়া পুজোর আমেজ পূর্ণ করতে তাজা গাদা, গোলাপ বা রজনীগন্ধার মালার জুড়ি মেলা ভার। দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার জন্য কাপড়ের বা প্লাস্টিকের আর্টিফিশিয়াল গাঁদা ফুলের হ্যাঙ্গিং ও তোরণও রাখতে পারেন পছন্দের তালিকায়। প্রবেশদ্বার বা ঘরের দেওয়াল সাজাতে শুভ-লাভ বা আমের পাতার তোরণ অর্থাৎ বন্ধনওয়ার, শোলার তৈরি নান্দনিক ওয়াল আর্ট এবং রঙিন ঝালর ঘরের রূপ বদলে দেয় নিমিষেই। অন্দরসজ্জায় আভিজাত্য আনতে কাঁথা স্টিচ, ব্লক প্রিন্ট বা ব্রোকেডের মতো ঐতিহ্যবাহী কাজের কুশন কভার, লাল-হলুদ বা ব্রাইট রঙের পর্দা এবং সুতির বা রেশমি টেবিল রানার ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি পিতল বা কাঁসার প্রদীপ, ধুনুচি এবং ছোট উরুলিযাতে জল ছিটিয়ে ফুল ও মোমবাতি ভাসানো যায় এগুলো ঘরের ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে।

ঘর সাজানোর ধাপে ধাপে পরিকল্পনা ও কৌশল

প্রবেশদ্বার ও করিডোর সাজানো: প্রথম দর্শনেই অতিথিদের মন জয় করতে ঘরের মূল দরজায় একটি সুন্দর তোরণ বা বন্ধনওয়ার ঝুলিয়ে দিতে পারেন। প্রবেশদ্বারের ঠিক সামনে বা মেঝের এক কোণে চালের গুঁড়ি দিয়ে কিংবা রেডিমেড স্টিকার ব্যবহার করে চমৎকার আলপনা এঁকে নিন। এর পাশাপাশি একটি পিতল বা মাটির উরুলিতে জল দিয়ে তাতে তাজা ফুলের পাপড়ি এবং ভাসমান প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে চমৎকার এক অভ্যর্থনা তৈরি হয়।

ঠাকুরঘর ও পুজোর বেদি: ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র স্থান হলো ঠাকুরঘর ও পুজোর বেদি। এই স্থানটি সাজানোর সময় সিংহাসন বা বেদি সুন্দর লাল কিংবা বাসন্তী রঙের কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া উচিত। দেবীর পেছনে গাঁদা বা রজনীগন্ধার ছড়া সাজিয়ে একটি সুন্দর ব্যাকড্রপ তৈরি করতে পারেন। ঠাকুরের বেদির চারপাশে ছোট পিতলের প্রদীপ ও সুগন্ধি ধূপদান সাজিয়ে রাখলে পুরো পরিবেশটি অত্যন্ত পবিত্র, স্নিগ্ধ ও আলোকময় হয়ে ওঠে।

লিভিং রুম ও বসার ঘর: বসার ঘর বা লিভিং রুমে অতিথিদের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা নিশ্চিত করতে সোফা বা দিবানে উজ্জ্বল রঙের যেমন লাল, হলুদ, কমলা বা গাঢ় সবুজ রঙের কুশন কভার ব্যবহার করা যেতে পারে। জানলায় হালকা বা সিল্কের পর্দা ঝুলিয়ে দিলে সহজেই আলো চলাচলের পাশাপাশি একটি অভিজাত ভাব চলে আসে। সেন্ট্রাল টেবিলে একটি ছোট উরুলি বা পিতলের আকর্ষণীয় শোপিস রেখে বসার ঘরের পুরো সাজে পূর্ণতা আনা সম্ভব।

লাইটিং ও আলোর ব্যবহার: সন্ধ্যার সময় ঘরের মেজাজ সম্পূর্ণ বদলে দিতে আলোর ভূমিকা অনন্য। ঘরের বেলকনি, জানলা এবং ঠাকুরঘরের চারপাশে টুনি লাইট বা ফেয়ারি লাইটের সূক্ষ্ম ছোঁয়া দিন। খুব বেশি তীব্র বা কড়া আলো ব্যবহার না করে ওয়ার্ম অ্যান্ড সেফ লাইটিং বেছে নিলে ঘরে এক পরম উষ্ণ, আরামদায়ক ও মনোরম আবহ তৈরি হয়, যা পুজোর দিনগুলোতে ঘরকে এক স্বর্গীয় রূপ দেয়।

The post শারদীয় উৎসবের রঙে ঘর সাজানো first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.