ত্রয়োদশ সংসদে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন
১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রথম অফিস করবেন মন্ত্রীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে শপথ নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নেতৃত্বে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু হলো বিএনপি সরকারের।
তাদের সবাইকেই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ পড়ানো হয়। এই শপথ পাঠের মাধ্যমে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সরকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
প্রায় ১৯ বছর পর গঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৫০ জন। এরমধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এদের মধ্যে টেকনেক্র্যাট হিসেবে দুই জন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এই মন্ত্রিসভায় এক ঝাঁক নতুন মুখ রয়েছে, যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। এমনকি অনেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত হননি। তবে এদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার নির্বাচিত হবেন বলে জানা যাচ্ছে।
মন্ত্রীদের তালিকায় ২৫ জনের ১৭ জনই নতুন মুখ। শতাংশের হিসাবে ৬৮ শতাংশই নতুন মন্ত্রী হয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় থাকা ২৪ জনই নতুন। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন। নতুন এ মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের করা তালিকায় দেখা যায় ঢাকা বিভাগ থেকে ১০ জনকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমসংখ্যক ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে, রাজশাহী থেকে ৬ জন, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ৫ জন করে, খুলনা ও রংপুর বিভাগ থেকে ৪ জন করে এবং মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে কম দুজনকে নেওয়া হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে।
সূত্রমতে, ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের নিয়ে সচিবালয়ে অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক এবং সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা করবেন তিনি।
এদিন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু; মহিলা ও শিশু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু; ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম; শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলন; বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের; ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরি; পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি; বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু; স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান উপস্থিত থাকবেন।
একইসঙ্গে টেকনোক্র্যাট কোটায় , কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য মন্ত্রী আমিন উর রশিদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ড. এম এ মুহিত (ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; এম রশিদুল জামান মিল্লাত (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়); অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়); মো. শরিফুল আলম (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়); শ্যামা ওবায়েদ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়); সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়); ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (ভূমি মন্ত্রণালয়); ফরহাদ হোসেন আজাদ (পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়); আমিনুল হক (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়); মীর হেলাল উদ্দীন (পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়); হাবিবুর রশিদ (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়); মো. রাজিব আহসান (রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়); মো. আব্দুল বারী (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়); মীর শাহে আলম (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়); মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়); ইশরাক হোসেন (মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়); ফারজানা শারমিন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়); শেখ ফরিদুল ইসলাম (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়); মো. নুরুল হক নুর (শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়); ইয়াসের খান চৌধুরী (তথ্য, সম্প্রচার মন্ত্রণালয়); এম ইকবাল হোসেইন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়); আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর (গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়); ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়) এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়) বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমআই







