তোপের মুখে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স অনুমোদন স্থগিত

তোপের মুখে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স অনুমোদন স্থগিত
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৭  

নতুন সরকার গঠনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। তাদের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

দুপুরে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি পর্ষদ সভায় ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে কার্যসূচি পরিবর্তন করা হয়। সভায় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্ত নম্বর সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তবে, কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন সংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করা হয়। কয়েকজন পরিচালক জরুরি সভা আহ্বান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, আমার ডিজিটাল ব্যাংক, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট, অ্যাপ ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক, জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক ও উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক।

এর আগে সকালের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নেতারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল, ঠিক সেসময় মাত্র একদিনের নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কাউন্সিলের অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্দেশে এ সভা আহ্বান করা হয়েছিল। তারা দাবি করেন, বর্তমান গভর্নর অতীতে ওই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি গভর্নরের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্রে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের পরামর্শক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করার অভিযোগও তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত ব্যক্তিকে কার্ড ইস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে যা নজিরবিহীন। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আইন ও প্রথার পরিপন্থি এবং এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে একচেটিয়া বাজার তৈরির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও অসংখ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়। অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। এমতাবস্থায় নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গভীর ও স্বচ্ছ পর্যালোচনার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা।

এদিকে, সকালে সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই অফিস আদেশে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনও কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে, ঘরোয়া বৈঠকে বা সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক সংক্রান্ত বা নীতিমালাবিষয়ক বক্তব্য দিতে পারবেন না।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স ইস্যু আপাতত স্থগিত থাকলেও বিষয়টি ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে আলোচনা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। 

ডিবিটেক/এসএমইএইচ/এমইউএম