এনবিআর-প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস

ঢাকা: এনবিআর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫ জন সরকারি কর্মচারীদের যোগসাজশে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। এই প্রশ্নফাঁসে একেকজন প্রার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হতো ৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। এমনকি তারা তিন থেকে চার বছর ধরে এই কাজ করে আসছে বলে ধারণা এসআরবির। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া […] The post এনবিআর-প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Ente

এনবিআর-প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০  

ঢাকা: এনবিআর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫ জন সরকারি কর্মচারীদের যোগসাজশে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। এই প্রশ্নফাঁসে একেকজন প্রার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হতো ৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। এমনকি তারা তিন থেকে চার বছর ধরে এই কাজ করে আসছে বলে ধারণা এসআরবির।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন এসআরবি-৩ এর আর্টিলারি অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

যুব উন্নয়ন অধিদফতরের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পরিবেশ অধিদফতরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরে কর্মরত অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)। গ্রেফতার এই সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই সরকারি কর্মচারী।

লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, ‘গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই পরীক্ষায় মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। পরীক্ষাটি সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার দিন সকাল ১০টার দিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি স্থগিত করে। এ বিষয়ে গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতর মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে।’

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এসআরবি গোয়েন্দা দল গত ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে সাতজনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য উৎস, সরবরাহের ধাপ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণকারীদের তথ্য উঠে আসে। তদন্তে পাওয়া যায় যে, এই চক্রের ব্যক্তিবর্গ মূলত হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে থাকে।

প্রাথমিক তদন্তে রুবেল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। যাকে ভর্তির সংক্রান্ত বাণিজ্যের ব্যাপারে চেকের মাধ্যমে অর্থ আদান প্রদানকালে এই চক্রের আরো দুইজন সদস্যসহ মতিঝিল থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের মোবাইল ফোন পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আরও চারজন গ্রেফতার করা হয়।’

এসআরবি-৩ এর আর্টিলারি অধিনায়ক বলেন, ‘গ্রেফতার অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নূর মোহাম্মদ সর্বপ্রথম ভোর রাতে একটি সূত্র মারফত প্রথম প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পায়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর, যিনি এনবিআরে কর্মরত একজন কম্পিউটার অপারেটর, তিনি সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি নূর মোহাম্মদকে পুনরায় পাঠায়। নূর মোহাম্মদ ওই প্রশ্নের উত্তরপত্র প্রস্তুত করে এবং তা জাহাঙ্গীর ও ইমদাদকে পাঠায়। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের নিজস্ব প্রার্থীদের ও এই চক্রের বিতরণকারী আসাদ (অফিস সহায়ক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়), রুবেল (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পরিবেশ অধিদফতর), মফিজ (সক্রিয় সদস্য) ও মফিজের সহযোগী এবং অন্যান্যদের নিয়ে আসা মাঠ কর্মী হিসেবে নিয়োজিত সুজনকে (সক্রিয় সদস্য) দেয়।’

চক্রের মূল হোতা নূর মোহাম্মদ কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নূর মোহাম্মদ দ্বিতীয় ধাপ। তার আগেও কেউ আছে। তবে কে আছে সেটি এখনো স্বীকার করেনি। আমাদের তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে সরকারি কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১১৬টি ১০০ টাকার স্ট্যাম্প, ৪টি ৫০ টাকার স্ট্যাম্প, ১ সেট প্রশ্ন, ১৯ পাতা বিভিন্ন পরীক্ষার এডমিট কার্ড, ১০টি সার্টিফিকেট, ৪৮ পাতা বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ৮টি মোবাইল ফোন, ১৫টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির সার্টিফিকেট, ৬টি এনআইডি এবং নগদ ৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেফতার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চাকরি দেওয়ার কথা বলে তারা তৃতীয় শ্রেণির চাকরিপ্রার্থীদের নিকট থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির প্রার্থীদের নিকট থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। অনেক সময় ভুয়া প্রবেশপত্র ও নিয়োগপত্র তৈরি করেও তারা প্রতারণা করেছে। জামানত হিসেবে পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন সার্টিফিকেট ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিজেদের কাছে রেখে দিত। চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার্থীদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত এবং ব্যাংক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান করত।’

গ্রেফতারকৃতরা ধারাবাহিকভাবে এই কাজ করে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চক্রের সদস্যরা দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতরের নিয়োগ জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল। যেকোনো সরকারি দফতরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠত এবং অসাধু কর্মচারীদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করত।’

The post এনবিআর-প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.