মেসেঞ্জারে গ্রুপচ্যাটের বিরোধে পঞ্চগড়ে ছাত্রকে ছুরিকাঘাতে ১২ কিশোর আটক

মেসেঞ্জারে গ্রুপচ্যাটের বিরোধে পঞ্চগড়ে ছাত্রকে ছুরিকাঘাতে ১২ কিশোর আটক
২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:১৯  

ফেসবুক মেসেঞ্জারে গ্রুপচ্যাটকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়ে সোহান আলী (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রকে দলবদ্ধভাবে মারধর ও ছুরিকাঘাতের অভিযোেগে ১২ কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।

সোহানের বড় ভাই রশিদুল ইসলাম পঞ্চগড় সদর থানায় বাদী হয়ে ১ ডিসেম্বর সোমবার রাতেই  মামলাটি করেন। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার অমরখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আহত সোহান অমরখানা এলাকার বদিনাজোত গ্রামের ভ্যানচালক তরিকুল ইসলামের ছেলে। সে অমরখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় ১০–১২ দিন আগে একটি ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে সোহানের সঙ্গে অভিযুক্ত কয়েক কিশোরের কথা-কাটাকাটি ও গালি-গালাজের ঘটনা ঘটে। সোমবার স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা সোহানকে ধরে ফেলে। এ সময় নূর নামে এক কিশোর সাইকেলের ফ্রিহুইল দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করলে সে গুরুতর জখম হয়। আরেক কিশোর কাইয়ুম ধারালো ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করতে গেলে সোহান বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করে। এতে তার কবজির রগ কেটে যায়। এ সময় অন্যরা তাকে কিলঘুষি ও লাথি মারে। সোহানের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে ১২ কিশোরকে ধরে ফেলে, তবে নূরসহ আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়। ধাওয়া করার সময় কিছু কিশোর স্থানীয়দের গণপিটুনিরও শিকার হয়েছে বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আটক কিশোরদের উদ্ধার করেন অমরখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম এবং অন্যান্য শিক্ষকরা। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে আটক কিশোরদের হেফাজতে নেয় এবং হামলায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করে।

পুলিশ জানায়, আটক ১২ কিশোরের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা বিপি স্কুল, কালেক্টরেট স্কুল, জগদল উচ্চ বিদ্যালয় এবং জগদল আলিম মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাড়ি সাতমেড়া ইউনিয়ন, জগদল বাজার, খালপাড়া, প্রধানপাড়া, বানিয়াপাড়া, চেকরমারীসহ বিভিন্ন এলাকায়।

আহত সোহানের বাবা তরিকুল ইসলাম জানান তার  ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছে। অপরদিকে মামলার বাদী বড় ভাই রশিদুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ছোট ভাই পাঁচ/ছয়দিন আগে পরীক্ষা দিতে বাড়ি আসে। পরীক্ষা শেষে ফিরতেই তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে আটক কিশোরদের স্বজনদের দাবি, তারা মূল হামলাকারী নয়। বরং বন্ধুর মারামারির খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান বাংলানিউজকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটকরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু ডেস্কে রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ডিবিটেক/বানি/ইকে