ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হলেন প্রকৌশলী রেহান আসিফ আসাদ
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এবার আরও একজন উপদেষ্টা পেলো ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এই দুই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন প্রকৌশলী রেহান আসিফ আসাদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একাদশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীপরিষদকে সহায়তায় নিযুক্ত ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে প্রতিমন্ত্রী মার্যাদায় দু’দিন আগেই এই দায়িত্ব পান তিনি।
১৯ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টাদের দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত এই প্রযুক্তি পেশাদারকে দেয়া হলো ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুত্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব।
নবনিযুক্ত এই উপদেষ্টা রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কেল্লা বারূইপাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এমআইটি স্লোন স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট থেকে ম্যানেজমেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স এবং আরএমআইটি থেকে টেলিকম ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করেছেন।তিনি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রয়াত চেয়ারম্যান ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এম. আসাদুজ্জামানের ছেলে এবং সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাতিজা। তার আরেক চাচা এনামুল হক বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন রেহান আসিফ আসাদ।
উপদেষ্টা হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়ে এবার তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতকে এই খাতের উন্নয়নে খাত সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা নিয়োগের মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিএনপি’র চতুর্থ মেয়াদের সরকারে সমান্তরাল ভাবে পরিচালনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতাত্তর ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় (বর্তমানে বিভাগ)। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে এটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেবে পুনর্গঠিত হয় এবং ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিভাগ হিসেবে পুনর্গঠিত ও একীভূত হয়। একইভাবে ১৯৯৩ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গঠিত হলেও পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালে এর নাম পরিবর্তন করে "বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়" রাখা হয়ভ দবে ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ফের এর নাম পরিবর্তন করে বর্তমানের "বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়" রাখা হয়। ২০০২-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দলের আব্দুল মঈন খান। একই সময়ে ডাক ও টেলিযোগযোগ মন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে আমৃত্যু বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী ব্যারিস্টার আমিনুল হক।
এরপর থেকেই টেলিকম ও বিজ্ঞানে একজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং আইসিটিতে একজন প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পূণর্গঠিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলের পূর্ণ সময়েই এখানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী বিভাগেরই কণিষ্ঠ একজন সংসদ সদস্য জুনাইদ আহমেদ পলক। ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা চালানোর মামলায় এখন তিনি কারাবন্দী। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়টিতে ওই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষাপ্রতিনিধি এবং নতুন সরকারের সময়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পদ ছাড়লে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি হিসেবে মন্ত্রণালয়টির কার্য পরিচালনা করেন আরেকজন প্রকৌশলী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন সাবেক গভর্নর ও অর্থনিতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম







