এআইনির্ভর তিনটি নতুন ডিভাইস আনছে অ্যাপল
প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাল মেলাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ তিনটি নতুন পরিধেয় ডিভাইসের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এর মধ্যে রয়েছে একটি এআই পিন, এআই-চালিত স্মার্ট গ্লাস এবং ক্যামেরা-সজ্জিত এয়ারপডস। খবর টেকক্রাঞ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিভাইস তিনটি আইফোনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করবে এবং ভার্চুয়াল সহায়ক ‘সিরি’ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ডিভাইস হতে পারে অ্যাপলের স্মার্ট গ্লাস। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ‘এন৫০’ কোডনামের এই চশমায় উচ্চ রেজুলিউশনের ক্যামেরা থাকবে। মেটার সফল স্মার্ট গ্লাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে এটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চশমাটিতে কোনো ডিসপ্লে থাকবে না; বরং স্পিকার, মাইক্রোফোন ও ক্যামেরার মাধ্যমে মিথস্ক্রিয়া হবে। এতে দুটি ক্যামেরা লেন্স থাকবে—একটি ছবি ও ভিডিও তোলার জন্য এবং অন্যটি ‘কম্পিউটার ভিশনের’ জন্য, যা ডিভাইসটিকে পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেবে। এর মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, যেমন খাবারের উপাদান চেনা বা কোনো পোস্টার থেকে তথ্য নিয়ে ক্যালেন্ডারে সংরক্ষণ করা ইত্যাদি।
প্রাথমিক প্রোটোটাইপগুলো আলাদা ব্যাটারি প্যাক ও আইফোনের সঙ্গে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকলেও, নতুন সংস্করণে সব উপকরণ ফ্রেমের মধ্যেই সংযোজিত হয়েছে। অ্যাপল নিজেই বিভিন্ন আকার ও রঙের ফ্রেম ডিজাইন করছে।
আগামী ডিসেম্বরে এর উৎপাদন শুরু হয়ে ২০২৭ সালে বাজারে আসতে পারে।
অ্যাপল এআই পেন্ডেন্ট বা ‘এআই পিন’ ডিভাইসটি তৈরি করছে, যা আকারে অ্যাপলের ট্র্যাকিং ডিভাইস ‘এয়ারট্যাগের’ মতো হবে। এটি কাপড়ে আটকানো বা নেকলেসের মতো পরা যাবে। ব্যর্থ হিউমেন এআই পিনের মতো হলেও এতে ডিসপ্লে বা প্রজেক্টর থাকবে না।
এটি মূলত আইফোনের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করবে। ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইফোনের ওপর নির্ভর করবে। এতে স্পিকার থাকলে ব্যবহারকারীরা আইফোন বের না করেই কথোপকথন চালাতে পারবেন। তবে ডিভাইসটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।
এছাড়া অ্যাপল ক্যামেরা-সজ্জিত এয়ারপডস নিয়েও কাজ করছে, যা এআই কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে । ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্যামেরা উচ্চ রেজুলিউশনের হবে না, বরং এআই সহায়ককে পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিতে ব্যবহৃত হবে। সম্ভবত এটি অ্যাপল ভিশন প্রো-এর ক্যামেরার মতো হবে। এই এয়ারপডস চলতি বছরেই বাজারে আসতে পারে ।
মেটা, স্ন্যাপ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই একই ধরনের ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি এক কর্মীদের সমাবেশে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি নতুন ‘পণ্য ক্যাটাগরি’ নিয়ে কাজ করছে। যদিও আইফোনের বিক্রি এখনো শক্তিশালী, এআই প্রযুক্তিতে অ্যাপল পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সিরির আপগ্রেডেশন বারবার পিছিয়েছে। ফলে নতুন এই ডিভাইসগুলোর সাফল্য মূলত নির্ভর করবে সিরি কতটা উন্নত করা যায়, তার ওপর ।
ডিবিটেক/বিএমটি







