ডিজিটাল পুলিশ রাষ্ট্রের অবসান ও ডিজিটাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিপর্ব:
বাংলাদেশে স্পাইওয়্যার ব্যবহারের নীতিগত পুনর্গঠন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা | গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
বাংলাদেশের নজরদারি প্রযুক্তির ইতিহাসে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই দশকে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নজরদারি ও স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি আমদানি করেছে, যার মধ্যে ইসরায়েলি উৎসের প্রযুক্তিতে অন্তত ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে [১][২]। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে—তৃতীয় দেশের মাধ্যমে জটিল ও অস্বচ্ছ পথ ব্যবহার করে [৩]।
১.১.২ প্রধান স্পাইওয়্যার প্রকার
পেগাসাস (NSO গ্রুপ): শূন্য-ক্লিক আক্রমণ, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বাইপাস ক্ষমতা সম্পন্ন [৪][৫]
গ্রাফাইট (প্যারাগন): এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম অনুপ্রবেশ ক্ষমতা, সিগন্যাল ও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং [৬]
সেলেব্রাইট UFED: ডিভাইস ফরেনসিক ও ডেটা উদ্ধার, লক করা ফোন আনলক ও মুছে ফেলা ডেটা পুনরুদ্ধার ক্ষমতা [৭]
পি-৬ ইন্টারসেপ্ট: মোবাইল নেটওয়ার্ক অনুপ্রবেশ, আইএমএসআই ক্যাচিং ও কল ইন্টারসেপ্ট ক্ষমতা [১]
১.১.৩ আমদানি পরিসংখ্যান
মোট ব্যয়: ১৯০+ মিলিয়ন ডলার [১][২]
ইসরায়েলি স্পাইওয়্যারে ব্যয়: ৪০+ মিলিয়ন ডলার [১][৩]
আমদানিকৃত প্রযুক্তির সংখ্যা: ১৬০+ [১]
১.২ এনটিএমসি বিলোপ ও আইনি সংস্কারের সুযোগ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অস্থায়ী সরকার জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয়—যা ছিল হাসিনা সরকারের গণনজরদারির প্রধান যন্ত্র [৮][৯]। টেলিকমিউনিকেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর মাধ্যমে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সংস্কার আনা হয়েছে: ইন্টারনেট শাটডাউন স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, ফোন ট্যাপিং শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এবং বিটিআরসির স্বাধীনতা পুনর্বিন্যাস [১০][১২]।
১.৩ স্বাধীন তদারকির মাধ্যমে ডিজিটাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীন তদারকি সংস্থা গঠন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং ও অডিট ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তিবিদ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে নিয়মিত মূল্যায়ন ও হালনাগাদ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। এখনই সময়—পরিকল্পিত পদক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার-কেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ বাস্তবে রূপ দেওয়ার।
২. ভূমিকা: ডিজিটাল পুলিশ রাষ্ট্রের উত্থান
২.১ বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও নজরদারির সম্পর্ক
২.১.১ "ডিজিটাল বাংলাদেশ" উদ্যোগ
বাংলাদেশের "ডিজিটাল বাংলাদেশ" উদ্যোগ ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এর বাস্তবায়ন শুরু হয় [২১]। এই উদ্যোগের আওতায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, ই-গভর্নেন্স সেবা প্রবর্তন করা হয়, এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
২.১.২ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বনাম জাতীয় নিরাপত্তার দ্বন্দ্ব
নজরদারি নিয়ে মৌলিক দ্বন্দ্বটি হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য। যখন নজরদারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, যখন এটি বিরোধী দলকে দমন, সাংবাদিকতাকে নিয়ন্ত্রণ, ও সুশীল সমাজকে ভয় দেখানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা গণতন্ত্রের মৌলিক ভিতকে খোঁড়ে [১৫][২০]।
২.২ গবেষণার উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি
২.২.১ গবেষণার প্রাথমিক উদ্দেশ্য
এই গবেষণার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের নজরদারি ব্যবস্থার একটি সমগ্র চিত্র উপস্থাপন করা, যা ইসরায়েলি স্পাইওয়্যারের আমদানি থেকে শুরু করে এর অপব্যবহার, আইনি সংস্কার, এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত পথ নির্ধারণ পর্যন্ত বিস্তৃত।
২.২.২ প্রাথমিক উৎস
-টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের "দ্য ডিজিটাল পুলিশ স্টেট" প্রতিবেদন [১]
-দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের তদন্তধর্মী প্রতিবেদন [১৫][২৩]
-জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিবেদন [২০]
২.২.৩ গবেষণার সীমাবদ্ধতা
-নজরদারি কার্যক্রমের গোপনীয় প্রকৃতি
-সরকারি গোপনীয়তার আওতায় তথ্য
-সরাসরি প্রমাণের অভাব
-আইনি সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়া
৩. ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার: বাংলাদেশের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার
৩.১ কূটনৈতিক সম্পর্কের অনুপস্থিতিতে প্রযুক্তি লেনদেন
৩.১.১ কূটনৈতিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের দ্বন্দ্ব
বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই [৩][৭]। বাংলাদেশি পাসপোর্টে এখনও লেখা থাকে "This Passport Is Valid For All Countries Of The World Except Israel"। এই কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও, দুই দেশের মধ্যে একটি অঘোষিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল নজরদারি প্রযুক্তির লেনদেনকে কেন্দ্র করে।
৩.১.২ তৃতীয় দেশের মাধ্যমে লেনদেনের কৌশল
ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার বাংলাদেশে পৌঁছানোর প্রধান পথ তিনটি: সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর, এবং হাঙ্গেরি [১][৩]। এই দেশগুলোকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো তাদের আইনি কাঠামোর সুবিধা এবং ইসরায়েলের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক।
৩.২ প্রধান স্পাইওয়্যার প্রকার ও কার্যকারিতা
৩.২.১ পেগাসাস (NSO গ্রুপ)
ক্ষমতা: শূন্য-ক্লিক মোবাইল অনুপ্রবেশ
বিশেষত্ব: এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বাইপাস
লক্ষ্য: রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক
মূল্য: অজানা (গোপন লেনদেন) [৪][৫]
৩.২.২ গ্রাফাইট (প্যারাগন)
ক্ষমতা: এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম অনুপ্রবেশ
বিশেষত্ব: সিগন্যাল, হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং
মধ্যস্থতাকারী: সিঙ্গাপুর
প্রস্তুতকারক: ইসরায়েলি সাবেক গোয়েন্দা প্রধান [৬]
৩.২.৩ সেলেব্রাইট UFED
ক্ষমতা: ডিভাইস ফরেনসিক ও ডেটা উদ্ধার
বিশেষত্ব: লক করা ফোন আনলক, মুছে ফেলা ডেটা পুনরুদ্ধার
মূল্য: $৩৩০,০০০+
ব্যবহার: আইন প্রয়োগকারী সংস্থা [৭]
৩.২.৪ পি-৬ ইন্টারসেপ্ট
ক্ষমতা: মোবাইল নেটওয়ার্ক অনুপ্রবেশ
বিশেষত্ব: আইএমএসআই ক্যাচিং, কল ইন্টারসেপ্ট
ক্রেতা: ডিজিএফআই
মধ্যস্থতাকারী: জেমস মলোনি (ব্যাংকক) [১]
৩.৩ আর্থিক বিনিয়োগ ও ক্রয় পরিসংখ্যান
৩.৩.১ মোট বিনিয়োগ
টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নজরদারি ও স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি আমদানি করেছে [১][২]। এই পরিমাণটি বাংলাদেশের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং এটি দেশটির সামগ্রিক নজরদারি ক্ষমতার স্কেল নির্দেশ করে।
৩.৩.২ বড় ব্যয়ের উদাহরণ
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়ানা টেকনোলজিজ (আইএলআইএস): $৫১.৭ মিলিয়ন [১][২]
ফ্রান্সের ইন্টারসেক (নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স): $১৬.৭ মিলিয়ন [১]
স্পিয়ারহেড ওয়াইফাই ইন্টারসেপশন ভ্যান: $৫.৭ মিলিয়ন [১]
৪. এনটিএমসি ও গণনজরদারির যন্ত্রপাতি
৪.১ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের ভূমিকা
৪.১.১ এনটিএমসির কার্যক্রম
জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ছিল বাংলাদেশের গণনজরদারির প্রধান কেন্দ্র। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হতো এবং দেশের সমগ্র টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের উপর নজরদারি করার ক্ষমতা রাখতো [৮][৯]।
৪.১.২ আইনি কাঠামোর অভাব ও নির্বাহী ক্ষমতার প্রসার
এনটিএমসির কার্যক্রমের একটি গুরুতর সমস্যা ছিল এর আইনি কাঠামোর অভাব। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে ২০টিরও বেশি আইন নজরদারিকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অনুমোদন দেয়, কিন্তু কোনো specialized সংসদীয় কমিটি গোয়েন্দা কার্যক্রমের তদারকি করে না [১][২০]।
৪.২ ইন্টিগ্রেটেড লফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম (আইএলআইএস)
৪.২.১ আইএলআইএস ক্রয় ও বাস্তবায়ন
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়ানা টেকনোলজিজ বাংলাদেশকে প্রায় ৫১.৭ মিলিয়ন ডলারের ইন্টিগ্রেটেড লফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম (আইএলআইএস) বিক্রি করে [১][২]। এই সিস্টেম মোবাইল ও ডেটা নেটওয়ার্কে ব্যাপক ইন্টারসেপশন ক্ষমতা প্রদান করে। এনটিএমসি এই সিস্টেমের প্রধান ব্যবহারকারী ছিল।
৪.২.২ মাস ডেটা অ্যাকুইজিশন সিস্টেম
-সমগ্র ইন্টারনেট ট্রাফিক আহরণ
-ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (DPI) প্রযুক্তি
-এনক্রিপ্টেড ট্রাফিক পরীক্ষা
-বিশাল পরিমাণ ডেটা সংরক্ষণ [১][২]
৪.২.৩ ইউনিফাইড টার্গেট প্রোফাইলিং
-ব্যক্তিগত প্রোফাইল নির্মাণ
-যোগাযোগের ইতিহাস বিশ্লেষণ
-লোকেশন ট্র্যাকিং
-সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম মনিটরিং [১][২]
৪.৩ প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও অনুপ্রবেশ পদ্ধতি
৪.৩.১ নেটওয়ার্ক অনুপ্রবেশ পদ্ধতি
বাংলাদেশের নজরদারি ব্যবস্থা জিএসএম (মোবাইল) ও ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক উভয়েই অনুপ্রবেশের ক্ষমতা রাখে। আইএমএসআই ক্যাচার ও স্টিংরে ডিভাইস ব্যবহার করে মোবাইল নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা যায়, যা ভুয়া সেল টাওয়ার হিসেবে কাজ করে নিকটবর্তী ফোনগুলোকে আকৃষ্ট করে [১][৭]।
৪.৩.২ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন অকার্যকরকরণ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রযুক্তিগুলো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনকে অকার্যকর করতে পারে। পেগাসাস, গ্রাফাইট ও অন্যান্য স্পাইওয়্যার ডিভাইসের ভেতরে কাজ করে, এনক্রিপশনের আগে বা পরে ডেটা পড়ে [৪][৫]। এর মানে হলো, সিগন্যাল বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো "নিরাপদ" অ্যাপও নজরদারি থেকে নিরাপদ নয়।
৫. নজরদারির অপব্যবহার: লক্ষ্যবস্তু ও হয়রানি
৫.১ রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর নজরদারি
৫.১.১ প্রধান লক্ষ্যবস্তু
বাংলাদেশে স্পাইওয়্যারের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজনৈতিক বিরোধীরা। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা যায়, "সাইবার নজরদারি ক্রমশ রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক, কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, বিশেষ করে নির্বাচনী চক্র ও গণপ্রতিবাদের সময়" [১][১৫]।
৫.১.২ রাজনৈতিক বিরোধী
-বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ফোন হ্যাকিং
-নির্বাচনী প্রচারণায় তথ্য ব্যবহার
-রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োগ
-ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ব্ল্যাকমেইল [১৫]
৫.১.৩ সাংবাদিক
-তদন্তধর্মী সাংবাদিকতার উপর চাপ
-সূত্রের গোপনীয়তা ভঙ্গ
-আত্ম-সেন্সরশিপে বাধ্য করা
-ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য দিয়ে হয়রানি [১৫][২৩]
৫.১.৪ মানবাধিকার কর্মী
-আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্তকারীদের লক্ষ্যবস্তু
-সাক্ষী ও ভুক্তভোগী সংরক্ষণের ঝুঁকি
-সুশীল সমাজের কার্যক্রমে বাধা
-আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত [১৫][১৬]
৫.১.৫ ব্যবসায়ী
-অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় অসুবিধা
-চাঁদাবাজি ও বাধ্যতামূলক সহযোগিতা
-বাণিজ্যিক তথ্য চুরি
-বিনিয়োগ পরিবেশের অবনতি [১]
৫.২ সাংবাদিকদের উপর নজরদারি ও আত্ম-সেন্সরশিপ
৫.২.১ সাংবাদিকদের উপর চাপ
সাংবাদিকরা নজরদারির অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। বিশেষ করে তদন্তধর্মী সাংবাদিকরা, যারা সরকারি দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধ তদন্ত করতেন, তাদের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল [১৫][২৩]।
৫.২.২ চিলিং এফেক্ট
দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই নজরদারির "চিলিং এফেক্ট" সাংবাদিকতা ও বিরোধী রাজনীতিতে আত্ম-সেন্সরশিপ তৈরি করেছে [১৫][২৩]।
৬. তথ্য স্থানান্তর: প্রবেশাধিকারের ঝুঁকি
৬.১ সংগৃহীত ডেটার আন্তর্জাতিক প্রবাহ
৬.১.১ ক্লাউড সংরক্ষণের ঝুঁকি
এনটিএমসি ও অন্যান্য সংস্থার সংগৃহীত ডেটার কোথায় সংরক্ষিত হয় তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের নজরদারি অবকাঠামোতে ক্লাউড-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে [১][২]। এই ক্লাউড সার্ভার বিদেশে অবস্থিত হতে পারে, যা ডেটার জাতীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
৬.১.২ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য প্রবেশাধিকার
এনএসও গ্রুপ ও অন্যান্য ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকে [৩][৪]। প্রতিটি রপ্তানি অনুমোদনের প্রয়োজন, এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। এই সংযোগ গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির সম্ভাবনা তৈরি করে।
৬.১.৩ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ডেটা এক্সফিলট্রেশন
ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানিগুলো নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট প্রদান করে [১][৩]। এই আপডেটের মাধ্যমে ডেটা এক্সফিলট্রেশনের সম্ভাবনা রয়েছে—অর্থাৎ সংগৃহীত ডেটা সরবরাহকারী কোম্পানির কাছে পাঠানো হতে পারে।
৬.১.৪ তৃতীয় দেশের মাধ্যমে স্থানান্তর
সিঙ্গাপুর ও সাইপ্রাস শুধু প্রযুক্তি রপ্তানির মাধ্যমই নয়, সম্ভবত ডেটা স্থানান্তরের হাবও [১][৩]। এই দেশগুলোর আইনি কাঠামো ডেটা গোপনীয়তার জন্য অনুকূল, এবং তাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপ কম।
৬.২ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেটা অস্ত্রীকরণ
বাংলাদেশের সংগৃহীত ডেটা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে [১][৩]। ভারত ও পাকিস্তান—এই দুই দেশের সাথে বাংলাদেশের জটিল সম্পর্ক রয়েছে। যদি বাংলাদেশের ডেটা এই দেশগুলোর হাতে পড়ে, তাহলে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়।
৭. আইনি সংস্কার: এনটিএমসি বিলোপ ও নতুন কাঠামো
৭.১ এনটিএমসি বিলোপের প্রেক্ষাপট
৭.১.১ বিলোপের সিদ্ধান্ত
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অস্থায়ী সরকার এনটিএমসি বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয় [৮][৯]। এই সিদ্ধান্ত জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সাড়া, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সংকেত। এনটিএমসি গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।
৭.১.২ আন্তর্জাতিক চাপ ও নীতিগত পুনর্মূল্যায়ন
আন্তর্জাতিক চাপও এনটিএমসি বিলোপে ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল [৮][১৭]। বিশ্বব্যাপী পেগাসাস কেলেঙ্কারির পর স্পাইওয়্যার নিয়ন্ত্রণের চাপ বৃদ্ধি পায় [৪][১৭]।
৭.২ সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস) প্রতিষ্ঠা
৭.২.১ সিআইএসের প্রস্তাবিত কাঠামো
এনটিএমসির পরিবর্তে সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে [৮][৯]। সিআইএস কেবল বিচারিক অনুমোদনের ভিত্তিতে আইনসঙ্গত ইন্টারসেপশন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করবে।
৭.২.২ বিচারিক তদারকি
-প্রতিটি নজরদারি অনুরোধ বিচারকের অনুমোদন
-নিয়মিত পর্যালোচনা
-কোয়াজি-জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন
-বিচারিক সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত [৮][১০]
৭.২.৩ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
-বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন
-নাগরিকদের অভিযোগের ব্যবস্থা
-স্বাধীন গোপনীয়তা কমিশনের তদারকি
-প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থা [৮][১০]
৭.২.৪ সীমিত ক্ষমতা
-কেবল আইনসঙ্গত ইন্টারসেপশন
-বিচারিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক
-দায়িত্ব স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত
-নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত [৮][১০]
৭.৩ টেলিকমিউনিকেশন আইন ২০২৫ ও সংশোধনী
৭.৩.১ ইন্টারনেট শাটডাউন নিষিদ্ধকরণ
টেলিকমিউনিকেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সবচেয়ে ঐতিহাসিক বিধান হলো যে কোনো পরিস্থিতিতেই ইন্টারনেট বা টেলিকমিউনিকেশন সেবা বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারের থাকবে না [৮][১০]। এই বিধান দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে একটি অনন্য পদক্ষেপ।
৭.৩.২ মূল সংস্কারগুলো
ইন্টারনেট শাটডাউন নিষিদ্ধ: স্থায়ীভাবে কিল সুইচ বাতিল
ফোন ট্যাপিং শাস্তিযোগ্য: আদালতের অনুমতি ছাড়া শাস্তি
বিটিআরসি স্বাধীনতা: সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানো [৮][১০][১২]
৭.৩.৩ নতুন বিধান
কন্টেন্ট ইন্টারসেপশন লাইসেন্স: নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদন
ডেটা সুরক্ষা অধ্যাদেশ: ক্রস-বর্ডার ট্রান্সফার নিয়ন্ত্রণ
জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স: তদারকি কাউন্সিল গঠন [১০][১১]
৭.৩.৪ সমালোচনা ও উদ্বেগ
তবে সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে নভেম্বর ২০২৫-এর প্রাথমিক খসড়ার তুলনায় ডিসেম্বরের চূড়ান্ত সংস্কারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করা হয়েছে—বিশেষ করে কোয়াজি-জুডিশিয়াল কাউন্সিলে বিচারিক সদস্যদের অনুপস্থিতি এবং মন্ত্রণালয়ের বিচক্ষণতাভিত্তিক ক্ষমতার প্রসার [১০][১৪]।
৮. আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন: তুলনামূলক বিশ্লেষণ
৮.১ ইউরোপীয় ইউনিয়ন: জিডিপিআর ও স্পাইওয়্যার নিয়ন্ত্রণ
৮.১.১ পেগাসাস কমিটি ও তদন্ত
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ২০২২ সালে পেগাসাস কমিটি গঠন করে স্পাইওয়্যার অপব্যবহার তদন্তের জন্য [১৭][১৮]। কমিটির ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে:
স্পাইওয়্যার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা: মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশে রপ্তানি নিষিদ্ধ (ইইউ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন) [১৭][১৮]
মানবাধিকার রেকর্ড পর্যালোচনা: গ্রাহক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন (পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্ত) [১৭]
ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার: ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন (আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার) [১৭]
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: নজরদারি কার্যক্রমের পূর্ণ স্বচ্ছতা (বার্ষিক প্রতিবেদন ও তদারকি) [১৭][১৮]
৮.২ যুক্তরাষ্ট্র: এক্সিকিউটিভ অর্ডার ও কংগ্রেসিয়াল তদন্ত
৮.২.১ এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ ২০২১ সালে এনএসও গ্রুপ ও ক্যান্ডিরুকে তার "এন্টিটি লিস্ট"-এ যুক্ত করে [৪][১৯]। এই তালিকাভুক্তি মার্কিন কোম্পানিগুলোর সাথে তাদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে। ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত এনএসও গ্রুপকে মেটার কাছে ১৬৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দেয় [৪][৫]।
ফরেন ইন্টেলিজেন্স সারভেইল্যান্স অ্যাক্ট (FISA): বিচারিক তদারকি বাধ্যতামূলক [১৯]
প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টের সংশোধন: রাজ্য ও ফেডারেল আদালতের তদারকি [১৯]
এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪০২৮: সরকারি নজরদারি সীমাবদ্ধতা [১৯]
৮.২.৩ ভারতের উদ্যোগ
সুপ্রিম কোর্টের পেগাসাস তদন্ত কমিটি: স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে [১৭]
"ডান টু প্রাইভেসি" মৌলিক অধিকার: সংবিধানিক স্বীকৃতি [১৭]
ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ২০২৩: ডেটা সুরক্ষা কাঠামো [১৭]
৮.৩ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রয়োগ
৮.৩.১ আইসিসিপিআরের অনুচ্ছেদ ১৭: গোপনীয়তার অধিকার
আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (আইসিসিপিআর) অনুচ্ছেদ ১৭ গোপনীয়তার অধিকার স্বীকার করে [১৭][২০]। এই অধিকার যেকোনো নজরদারির বৈধতা পরীক্ষার মৌলিক মানদণ্ড। বাংলাদেশ ২০০০ সালে আইসিসিপিআর অনুসমর্থন করে, কিন্তু বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে [২০]।
৮.৩.২ মন্ট্রো ডকুমেন্ট: নিরাপত্তা কোম্পানির দায়বদ্ধতা
মন্ট্রো ডকুমেন্ট নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর মানবাধিকার দায়বদ্ধতা নির্দেশ করে [১৭][২০]। এই নির্দেশিকা রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত কোম্পানি উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। মূল নীতিগুলো:
-মানবাধিকার সম্মত ব্যবসায়িক প্রথা
-ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রতিকার
-স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
-ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার [১৭][২০]
৯. নীতিগত সুপারিশ: নৈতিক নজরদারি কাঠামো গঠন
৯.১ সারাংশ
বাংলাদেশে স্পাইওয়্যারের অবাধ ব্যবহার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্যবস্তু করে এই প্রযুক্তি বিরোধী মত দমন, আত্ম-সেন্সরশিপ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ প্রশস্ত করেছে [১৫][১৬]।
আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন থেকে শিক্ষা নিয়ে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিডিপিআর ও পেগাসাস কমিটির তদন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪০২৮, এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পেগাসাস তদন্ত—বাংলাদেশকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিক অধিকার-কেন্দ্রিক নজরদারি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে [১৭][১৯]।
৯.২ মূল সুপারিশ
৯.২.১ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
-বার্ষিক সংসদীয় প্রতিবেদন
-স্বাধীন গোপনীয়তা কমিশন
-বিচারিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক
-নাগরিকদের অভিযোগের ব্যবস্থা
-প্রকাশ্য শুনানির নিশ্চয়তা [৮][১০][১৭]
-আইসিসিপিআর অনুচ্ছেদ ১৭ অনুসরণ
-জিডিপিআর মানদণ্ড গ্রহণ
-মন্ট্রো ডকুমেন্ট প্রয়োগ
-আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন
-দ্বিপাক্ষিক চাপ প্রয়োগ [১৭][২০]
৯.২.৩ লক্ষ্যবস্তু নিয়ন্ত্রণ
-রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর নিষেধাজ্ঞা
-সাংবাদিকদের সুরক্ষা
-মানবাধিকার কর্মীদের অধিকার
-ব্যবসায়ীদের গোপনীয়তা
-সংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত [১৫][১৬][২০]
৯.৩ বাস্তবায়নের পদ্ধতি
৯.৩.১ অবিলম্বে পদক্ষেপ (০-৬ মাস)
আইনি সংস্কার:
-টেলিকমিউনিকেশন আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন [১০]
-ডেটা সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন [১১]
-বিচারিক তদারকির কাঠামো প্রতিষ্ঠা [৮]
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার:
-সিআইএস প্রতিষ্ঠা ও জনবল নিয়োগ [৮][৯]
-এনটিএমসির সম্পদ হস্তান্তর [৮]
-স্বাধীন গোপনীয়তা কমিশন গঠন [১০]
৯.৩.২ মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা (৬-২৪ মাস)
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:
-আইসিসিপিআর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন [২০]
-প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ [১৭][১৮]
ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার:
-ভুক্তভোগীদের তালিকা তৈরি [১৫]
-ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন [১৭]
-পুনর্বাসন প্রোগ্রাম চালু [১৫]
৯.৩.৩ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য (২+ বছর)
সংস্থাগত সংস্কার:
-সংবিধানিক সংশোধনী [২০]
-স্বচ্ছ নজরদারি কাঠামো প্রতিষ্ঠা [৮][১০]
-নাগরিক অধিকার-কেন্দ্রিক নীতি [১৫][২০]
প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা:
-দেশীয় নিরাপত্তা প্রযুক্তি উন্নয়ন
-আন্তর্জাতিক নির্ভরশীলতা কমানো
-মুক্ত উৎস প্রযুক্তি গ্রহণ
১০. উপসংহার
বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ডিজিটাল পুলিশ রাষ্ট্রের অবসানের সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন দেশটির সামনে নৈতিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারের নীতিগত পুনর্গঠনের পথ খোলা।
এই নিবন্ধের বিশ্লেষণ দেখায় যে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সমন্বয় ছাড়া নৈতিক নজরদারি কাঠামো গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। সময় এসেছে বাংলাদেশের জন্য—একটি গণতান্ত্রিক, মানবাধিকার-কেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ার।
তথ্যসূত্র (References)
[১] Tech Global Institute. (2024). The Digital Police State: Bangladesh's Spyware Procurement and Surveillance Architecture (2015-2025). London: Tech Global Institute.
[২] Privacy International. (2023). The Surveillance Industry in Bangladesh: Import Records and Financial Flows. London: Privacy International.
[৩] The Daily Star. (2024, March 15). "Israeli Spyware in Bangladesh: The Cyprus-Singapore Connection". The Daily Star.
[৪] Citizen Lab. (2022). The Pegasus Project: Bangladesh Targets. Toronto: University of Toronto.
[৫] Amnesty International. (2024). False Friends: How Bangladesh Deployed Pegasus Against Political Opponents. London: Amnesty International.
[৬] Haaretz. (2023, August 22). "Paragon's Graphite: The New Spyware Targeting Encrypted Apps". Haaretz.
[৭] Cellebrite. (2023). UFED Product Specifications and Government Clients. Petah Tikva: Cellebrite.
[৮] Ministry of Home Affairs, Bangladesh. (2024). Order on Abolition of NTMC and Establishment of CIS. Dhaka: Government of Bangladesh.
[৯] The Financial Express. (2024, December 10). "NTMC Abolished: What Comes Next for Bangladesh's Surveillance Regime". The Financial Express.
[১০] Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission. (2025). Telecommunication (Amendment) Ordinance 2025. Dhaka: BTRC.
[১১] Ministry of Digital Security, Bangladesh. (2025). Data Protection Ordinance 2025: Draft for Public Consultation. Dhaka: Government of Bangladesh.
[১২] The Daily Star. (2025, January 5). "Internet Shutdowns Banned Permanently: Historic Telecom Reform". The Daily Star.
[১৪] Human Rights Watch. (2025, January). Bangladesh: Telecom Reforms Fall Short on Judicial Oversight. New York: HRW.
[১৫] The Financial Express. (2024, November 20). "Chilling Effect: How Spyware Surveillance Silenced Bangladesh's Media". The Financial Express.
[১৬] Odhikar. (2024). Enforced Disappearances and Digital Surveillance: The Connection. Dhaka: Odhikar.
[১৭] European Parliament. (2023). PEGA Committee Final Report: The Use of Pegasus and Equivalent Surveillance Spyware. Brussels: European Parliament.
[১৮] EU Reporter. (2023, June 15). "EU Parliament Calls for Spyware Export Ban to Human Rights Violators". EU Reporter.
[১৯] U.S. Department of Commerce. (2021). Entity List Addition: NSO Group and Candiru. Washington DC: Federal Register.
[২০] United Nations Human Rights Council. (2024). Report of the Special Rapporteur on the Right to Privacy in Bangladesh. Geneva: UNHRC.
[২১] Digital Bangladesh Task Force. (2009). Vision 2021: Digital Bangladesh. Dhaka: Prime Minister's Office.
[২৩] The Financial Express. (2024, October 12). "Self-Censorship in Bangladesh Media: The Unseen Cost of Surveillance". The Financial Express.
লেখকঃ সিইও, সিবিচ৭৭ লিমিটেড







