মৌলিক অধিকার ইন্টারনেট বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে আইএসপিএবি’র রোডম্যাপ 

বিটিআরসি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ

বিটিআরসি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৪৭  

বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেট আর বিলাসিতা নয়, বরং বিদ্যুৎ বা পানির মতোই এক মৌলিক অবকাঠামো। তবে এই খাতটি বর্তমানে অবকাঠামোগত বৈষম্য, উচ্চ কর হার এবং নীতিগত জটিলতায় জর্জরিত বলে মনে করেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে চায় ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি। আইসিটি ও টেলিকম খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন শপথ নেয়ার পর ডিজিবাংলাটেকডটনিউজ এর পক্ষ থেকে সংগঠনটির কাছে এই খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নতু সরকারের প্রত্যাশা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিলো। 

জবাবে এই খাতে বিদ্যমান ডিজিটাল বিভাজন ও অবকাঠামোগত সংকটের কথা তুলে ধরেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া। দেশের বর্তমান নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বললেন, "শহরে উচ্চগতির ইন্টারনেট থাকলেও গ্রাম পর্যায়ে এখনো মানসম্মত সংযোগ পৌঁছায়নি। এই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা না গেলে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে।"

তার মতে, বিটিআরসি (BTRC) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সেবার উচ্চমূল্য এই খাতের বড় বাধা।

এমন বাস্তবতায় ইন্টারনেট সেবাকে সাশ্রয়ী করতে তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি প্রস্তাব করেন- ইন্টারনেট সেবাকে 'ডিজিটাল অবকাঠামো' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের। একইসঙ্গে লাইসেন্স ফি, ভ্যাট এবং বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় চার্জ কমিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমানো এবং স্থানীয় আইএসপি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন।

নাজমুল করিম ভূঁইয়া বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই যদি একটি ১০০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করে, তবে এই খাতটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। এজন্য ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে জাতীয় ব্রডব্যান্ড মাস্টারপ্ল্যান আপডেট, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস কুইক উইন পলিসি গ্রহণ; সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ডাটা সুরক্ষা আইন আধুনিকায়ন এবং একটি শক্তিশালী 'সাইবার রেসপন্স টিম' গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। 

তিনি বলেন, "আমরা চাই সরকার ইন্টারনেটকে একটি মৌলিক সেবা হিসেবে ঘোষণা করুক। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসার মেরুদণ্ড হলো এই সংযোগ। যদি সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ নীতি বাস্তবায়িত হয়, তবেই বাংলাদেশ প্রকৃত ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তর সম্ভব।"

মোটাদাগে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এবং আইএসপি অপারেটরদের বাণিজ্যিক সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রতিটি নাগরিক মানসম্মত ইন্টারনেটের আওতায় আসবে বলে মনে করছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই জ্যেষ্ঠ নেতার মতে, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটকে প্রান্তিক মানুষের নাগালে নিয়ে আসা।

ডিবিটেক/ডিএইচই/আইএইচ