ইন্টারনেট বিড়ম্বনায় বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৯:১৫  

ক্যাম্পস জুড়ে স্থাপিত হয়েছে ফাইবার অপটিক। সেই সংযোগ তারহীন প্রযুক্তিতে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে রাউটারের মাধ্যমে। এভাবেই গোটা বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আবাসিক শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ধীরগতিতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষকরে বিভিন্ন বিভাগের কম্পিউটার ল্যাবে সংযোগ থাকলেও ধীরগতির কারণে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা মিলঝে না।  সূত্রমতে, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিভাগে অতিথি শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নেন। কিন্তু ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমেও ভোগান্তিতে পড়ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি সেমিস্টারে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সেবা বাবদ গুনতে হয় ২০০ টাকা। কিন্তু ধীরগতির কারণে জরুরি কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। ব্যবহারের সময় বারবার ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রশাসনিক ভবনে কিছুটা পাওয়া গেলেও মেলে না একাডেমিক ভবনে।

এদেরই একজন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ান আমিন। তার ভাষ্য, ‘ক্যাম্পাসে ওয়াইফাই সংযোগ থাকলেও তা কোনো কাজে আসছে না। বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাঝে মাঝে সংযোগ পাওয়া গেলেও ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায় না। জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল ফোনে ডাটা কিনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। প্রতি সেমিস্টারে নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার পরেও এমন অবস্থা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।' 

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন এই ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন শিক্ষকেরাও। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু সালেহ বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যে সব অবকাঠামোগত সুবিধা থাকা দরকার, তার মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা অন্যতম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুবিধা নিতান্তই অপ্রতুল। একটি ইমেইল চেক করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। একাডেমিক প্রয়োজনে তথা রেজাল্ট তৈরি সংক্রান্ত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট পরিষেবা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ইন্টারনেট সংযুক্তির ধীর গতির ফলে এ সব একাডেমিক কাজকর্ম ঠিকভাবে করা যায় না। একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযুক্তির এ দুরবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একাডেমিক ভবনের পরিধি বৃদ্ধি পেলেও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ বৃদ্ধি পায়নি। ফলে পূর্বের সংযুক্তি চাহিদা অনুযায়ী সার্ভিস দিতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক।

প্রতি সেমিস্টারে ফি নেওয়ার পরও ইন্টারনেটের ধীরগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আইসিটি সেলের সিনিয়র নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান রিপন বৈরাগী বলেছেন, ‘বিডিরেন (বাংলাদেশ রিসার্চ এডুকেশন নেটওয়ার্ক) এর সঙ্গে ২০১৫ সালে ৪০০ এমবিপিএসের চুক্তি হয়। কিন্তু ভবন ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি এ সমস্যার মূল কারণ। আমরা চিঠি দিয়েছি এবং চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছর থেকে ৭৫০ এমবিপিএস চালু হবে।’