সরকারি ই-সেবায় ৬১ শতাংশ নারী অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার

• সরকারি ই-সেবা ব্যবহার শেষে ৬১ শতাংশ নারী অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের মুখোমুখি
• মাত্র ৩১.৯ শতাংশ নারী পুরো সার্ভিস অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারেন
• তথ্য ফাঁস বা হ্যাকিং আতঙ্কে ভুগছেন ৭৩.২ শতাংশ নারী সেবাগ্রহীতা

সরকারি ই-সেবায় ৬১ শতাংশ নারী অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার
৩১ আগষ্ট, ২০২৬ ১৫:৪২  

সরকারি ডিজিটাল ই-সেবা ব্যবহারের পর দেশের ৬১ শতাংশ নারী পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের শিকার হচ্ছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সুশাসন ও স্থানীয় ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় এই সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতার চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিপিডির এই বিশেষ গবেষণার তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনের উপাত্ত অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা বাড়ানো হলেও সেবা প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে মাত্র ৩১.৯ শতাংশ নারী সম্পূর্ণ অনলাইনে তাদের কাজ শেষ করতে সক্ষম হন। বাকি সিংহভাগ নারীকে আবেদন পরবর্তী ধাপে কাগজপত্র জমা দিতে কিংবা সেবা সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। শুধু তা-ই নয়, ই-সেবার জটিলতা ও অফলাইন বাধ্যবাধকতার সুযোগে সেবা নিতে গিয়ে ৬.৬ শতাংশ নারী প্রত্যক্ষভাবে ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন।

ডিজিটাল সেবায় ডেটা সিকিউরিটি বা ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়েও নারী গ্রাহকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৩.২ শতাংশ নারী তাদের তথ্য ফাঁস বা হ্যাক হওয়ার গভীর আশঙ্কায় ভোগেন এবং মাত্র ৬০.১ শতাংশ নারী নিজেদের তথ্যকে আংশিক নিরাপদ বলে মনে করেন। অন্যদিকে ডিজিটাল সচেতনতার ক্ষেত্রেও বিশাল ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে; মাত্র ২৩.৭ শতাংশ নারী কখনো ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ফলে সেবা পেতে নানা হয়রানির শিকার হওয়া সত্ত্বেও ৮৩.৩ শতাংশ নারী কোনো দিন প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে সিপিডি দ্রুত এনক্রিপ্টেড প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের তথ্য সুরক্ষা, ডেটা প্রাইভেসি আইন কঠোরকরণ, সুনির্দিষ্ট ই-অভিযোগ ব্যবস্থা এবং নারীকেন্দ্রিক সমন্বিত ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচি জোরদারের জোর সুপারিশ জানিয়েছে।
//ডিবিটেক/এনএপি/এমআইএসটি//