ই-গভর্নেন্সে ৩৭% নাগরিক ভোগান্তির শিকার
• অনলাইনে আবেদনের পর ৩৭ শতাংশ নারী ও তরুণকে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে
• ই-গভর্নেন্সে স্থানীয় সরকারের সার্বিক প্রস্তুতি সূচক স্কোর মাত্র ৩৮.৯
• পরিবারপ্রতি এক সদস্যকে দক্ষ করতে সিপিডির বিশেষ সুপারিশ
ডিজিটাল সেবার ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও বাস্তবে সরকারি সুবিধা পেতে নাগরিকদের একটি বড় অংশকে অনলাইন ও অফলাইন—দুই প্রক্রিয়ারই মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ই-আবেদন সম্পন্ন করার পরও প্রায় ৩৭ শতাংশ নারী ও তরুণকে নথিপত্র জমা দিতে সরকারি কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট, ২০২৬) রাজধানীর লেকশোর হোটেলের লা ভিটা হলে আয়োজিত ‘ই-গভর্নেন্স অ্যাট দ্য লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস: কারেন্ট স্টেট অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক সংলাপে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক প্রতিবেদন মারফত এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
ইউএসএআইডি, সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ সহায়তায় পরিচালিত এ গবেষণায় ২,৬১১ জন নাগরিক এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের ২৯৭টি সরকারি কার্যালয় থেকে টেকনিক্যাল তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ায় সরকারি সেবা পাওয়ার হার অত্যন্ত নগণ্য; নারীদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১.৮ শতাংশ এবং তরুণদের ক্ষেত্রে ২.৯ শতাংশ। ডিজিটাল মাধ্যমে সেবা গ্রহণকালে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সেবাগ্রহীতাকে কেবল ফি পরিশোধ বা ফিজিক্যাল স্বাক্ষরের জন্য পুনরায় অফলাইন ব্যবস্থায় ফিরতে হচ্ছে।
সিপিডির গবেষণায় স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল অবকাঠামো ও সাক্ষরতার তীব্র ঘাটতিকে মূল প্রতিবন্ধক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরগুলোর ই-গভর্নেন্স প্রস্তুতি সূচক ১০০-এর মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৮.৯ পয়েন্টে। অনেক কার্যালয়ে কম্পিউটিং সরঞ্জাম অকেজো অবস্থায় রয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে সার্ভার ডাউন থাকে। পাশাপাশি দেশের প্রায় অর্ধেক নাগরিকের ডিজিটাল যন্ত্র পরিচালনায় মৌলিক দক্ষতার অভাব রয়েছে। তদুপরি ডাটা সিকিউরিটি ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার নিয়েও নারী সেবাগ্রহীদের মাঝে চরম উদ্বেগ পরিলক্ষিত হয়েছে। ভৌগোলিক বিচারে রংপুর বিভাগ ই-প্রস্তুতিতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে আইসোশ্যালের চেয়ারম্যান ড. অনন্য রায়হান, এটুআইয়ের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ফজলুল জাহেদ পাভেল এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ ই-সেবা প্রসারে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক ও ক্লাউড অবকাঠামো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। পরিস্থিতি নিরসনে সিপিডি প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন সদস্যকে ই-সেবায় দক্ষ করতে ‘ওয়ান ডিজিটাল মেম্বার পার হাউসহোল্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ এবং সমন্বিত ই-অভিযোগ নিষ্পত্তি সিস্টেম চালুর সুপারিশ করেছে।
//ডিবিটেক/এনএপি/এসএমই/এমআইএস//





