বর্তমানে সক্ষমতা ৭২০০ জিবিপিএস, ২০২৭ সালে পৌঁছাবে ৪১ হাজারে

দেশে ব্যান্ডউইডথ সংকটের দাবি ভিত্তিহীন: বিএসসিপিএলসি

  • দেশে ব্যান্ডউইডথ ঘাটতি বা ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিএসসিপিএলসি।
  • বর্তমানে দুটি সাবমেরিন ক্যাবলে ৭,২০০ জিবিপিএসের মধ্যে ৪,০০০ জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে, বাকি ৩,২০০ জিবিপিএস উদ্বৃত্ত রয়েছে।
  • ২০২৭ সালে সি-মি-উই-৬ যুক্ত হলে মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে ও৪১,০০০ জিবিপিএসে, যা ২০৩০ সালের প্রাক্কলিত চাহিদার চেয়েও বেশি

দেশে ব্যান্ডউইডথ সংকটের দাবি ভিত্তিহীন: বিএসসিপিএলসি
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৮  

দেশে কোনো ধরনের ব্যান্ডউইডথ ঘাটতি নেই এবং অদূর ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সংযোগে বিপর্যয় ঘটা কিংবা এর মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা ভিত্তিহীন ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতা বিবর্জিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দেশের বর্তমান চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সক্ষমতা মজুদ রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর সম্প্রসারণ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গণমাধ্যমে “ব্যান্ডউইডথ সংকটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, ইন্টারনেট খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা” এবং “ব্যান্ডউইডথ সংকটে বাড়তে পারে ইন্টারনেটের দাম, কমতে পারে গতি” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এ কারিগরি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিএসসিপিএলসি জানায়, দেশের ভবিষ্যৎ ডেটা ট্রাফিকের উচ্চগতির রূপরেখা বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান দুটি নির্ভরযোগ্য সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম 'সি-মি-উই-৪' (SEA-ME-WE-4) এবং 'সি-মি-উই-৫' (SEA-ME-WE-5)-এর পাশাপাশি তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল হিসেবে 'সি-মি-উই-৬' (SEA-ME-WE-6) বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

বর্তমান নেটওয়ার্ক কাঠামোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বিএসসিপিএলসি উল্লেখ করে, বিদ্যমান দুটি ক্যাবলের সম্মিলিত ট্রান্সমিশন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস (Gbps)। এর মধ্যে বর্তমানে দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ। অবশিষ্ট প্রায় ৩ হাজার ২০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে ২০২৭ সাল নাগাদ 'সি-মি-উই-৬' ক্যাবলটি বাণিজ্যিক অপারেশনে যুক্ত হলে এর মাধ্যমে এক লাফে অতিরিক্ত ৩৪ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ট্রান্সমিশন সক্ষমতা অর্জিত হবে। এর ফলে ২০২৭ সাল নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন ক্যাবলসমূহের মোট ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৪১ হাজার জিবিপিএসে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস ও প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশীয় ডেটা নেটওয়ার্কে মোট ব্যান্ডউইডথের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়াবে ৩০ হাজার জিবিপিএস। ফলে ২০২৭ সালের সঞ্চালন সক্ষমতা দিয়েই আগামী দশকের চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব হবে। এছাড়া ব্যাকআপ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেশের ৬টি আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরের মাধ্যমেও স্থলপথে চাহিদা অনুযায়ী ব্যান্ডউইডথ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বহুমাত্রিক সংযোগ নিশ্চিত করতে বিএসসিপিএলসি ইতোমধ্যে চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার কারিগরি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বিএসসিপিএলসির উপপরিচালক ও মুখপাত্র আব্দুর নূর তুষার দাবি করেন, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা মেটাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরিভাবে সংস্থাটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংকটের সম্ভাবনাও নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যান্ডউইডথের পাইকারি মূল্য ক্রমাগত হ্রাস করে গ্রাহকবান্ধব প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে। সামনে ডেটার ব্যবহার যত বৃদ্ধি পাবে, ইকোনমি অব স্কেলের সুবাদে ব্যান্ডউইডথ আরও সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

সার্বিক বিবেচনায় ব্যান্ডউইডথ সংকট কিংবা ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় কৌশলগত তথ্য অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিএসসিপিএলসি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়।
//ডিবিটেক/এএইচবি/এমএসআই//