প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নে সাইবার সুরক্ষা জোরদার ও ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের

বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় দেশেই তৈরি হবে ড্রোন

  • নতুন বহুমাত্রিক জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদন এবং সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করছে সরকার
  • সীমিত ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহারে প্রশিক্ষণ বিমানের জন্য আলাদা রানওয়ে না করে বর্তমান অবকাঠামো আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করা হয়েছে
  • বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরে আধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ ও ৫ থেকে ১০ দিনের আগাম পূর্বাভাস নেটওয়ার্ক কার্যক্রম চলমান রয়েছে
বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় দেশেই তৈরি হবে ড্রোন
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১২  

দেশের আকাশসীমার অখণ্ডতা রক্ষা, সাইবার হামলা প্রতিরোধ ও বহুমাত্রিক কৌশলগত হুমকি মোকাবিলায় নিজস্ব প্রকৌশল প্রযুক্তিতে ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযান (UAV) তৈরির সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার আধুনিকায়নে সামরিক বাহিনীর সাইবার নীতিমালার পুনর্বিন্যাস এবং সমুদ্রসীমায় প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি জোরদারের কাজ চলছে।

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এসব কারিগরি ও কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানান।

সংরক্ষিত নারী আসন-২-এর শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তনশীল ঝুঁকি এবং বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তি সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রকৌশল প্রযুক্তির সক্ষমতা ব্যবহার করে দেশেই আধুনিক সামরিক ও নজরদারি ড্রোন উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রসীমার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও ব্লু-ইকোনমির স্বার্থ সুরক্ষায় নৌ ও আকাশ নজরদারিতে উন্নত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সংযুক্ত করার উদ্যোগ চলছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল থেকে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন সরিয়ে নতুন রানওয়ে নির্মাণের দাবি প্রসঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসন-৪১-এর মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিমানবাহিনী দেশের সামগ্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা এবং আকাশসীমার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত। সীমিত ভূমির ভৌগোলিক বাস্তবতায় পৃথক সামরিক বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক ও লজিস্টিক অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করেই আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা অধিক বাস্তবসম্মত।

এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি সংক্রান্ত চট্টগ্রাম-১২ আসনের মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। আধুনিক সেন্সর ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর বর্তমানে ৫ থেকে ১০ দিনের আগাম পূর্বাভাস দিচ্ছে। নিখুঁত তথ্য ব্যবস্থাপনায় গ্রাউন্ড অবজারভেশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা (Advanced Data Analytics) এবং কারিগরি জনবল তৈরির কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন-১০-এর নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি অসামরিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের প্রযুক্তিগত ও নীতিগত কার্যকাঠামো তুলে ধরেন।

//ডিবিটেক/ জেনও/এমএসআই//