১৩ শত কোটি মাইল দূরের ভয়েজার ২ নভোযানের আয়ু বাড়াল নাসা
প্রায় ৫০ বছর ধরে মহাকাশে সফল যাত্রা বজায় রাখা ঐতিহাসিক নভোযান ‘ভয়েজার ২’-এর আয়ুষ্কাল আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) মাইল দূরে অবস্থানরত এই প্রবীণ প্রব বা যানটিতে বিশেষ একটি সফটওয়্যার আপডেট পাঠিয়ে সংস্থাটি আরও অন্তত এক বছরের জন্য এর বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।
‘বিগ ব্যাং’ নামের এই বিশেষ সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাকাশযানটির শক্তি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যাতে কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বন্ধ না করেই ২০২৭ সাল পর্যন্ত ডেটা সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়।
১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপণ করা ভয়েজার ২-এর মূল শক্তির উৎস হলো বিশেষ জেনারেটর, যা তেজস্ক্রিয় প্লুটোনিয়ামের ক্ষয় থেকে উৎপন্ন তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের ফলে প্লুটোনিয়াম নিঃশেষ হয়ে আসায় নভোযানটি প্রতি বছর প্রায় ৪ ওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে। মহাকাশযানটি যখন প্রথম যাত্রা শুরু করে, তখন এতে ১০টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সক্রিয় ছিল। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নাসা ধাপে ধাপে অধিকাংশ যন্ত্র বন্ধ করে শেষ পর্যন্ত ৩টিতে নামিয়ে আনে।
চলতি বছরেই শক্তি সংকটের কারণে আরও একটি যন্ত্র চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তবে বিগ ব্যাং অপারেশনের মাধ্যমে নাসা একই সঙ্গে একাধিক শক্তি চালিত যন্ত্র বন্ধ করে কম ক্ষমতার বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেছে এবং একই সাথে যানটি সচল রাখার জন্য পর্যাপ্ত তাপমাত্রা ধরে রাখতে সফল হয়েছে।
ভয়েজার ২ তার জমজ যান ‘ভয়েজার ১’-এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌরজগতের বাইরের গ্যাসীয় দানব গ্রহগুলো পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। ১৯৭৯ সালে এটি বৃহস্পতি গ্রহে পৌঁছায় এবং পরবর্তী এক দশকের মধ্যে সৌরজগতের সবকটি গ্যাসীয় গ্রহ পরিদর্শনের অনন্য রেকর্ড গড়ে।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সূর্য ও এর চারপাশের গ্রহগুলোকে ঘিরে থাকা সুরক্ষা বলয় বা হেলিয়োস্ফিয়ার অতিক্রম করে গভীর মহাকাশ বা নক্ষত্রান্তর্বর্তী স্থানে (ইন্টারস্টেলার স্পেস) প্রবেশ করে যানটি। সেখান থেকে মহাকাশের প্লাজমার ঘনত্ব ও তাপমাত্রা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনও নিয়মিত পৃথিবীতে পাঠিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীর অন্যতম সফল এই মহাকাশযান।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





