টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩০  

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি সেবার কার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ব্যবস্থা চালু, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং ভোক্তাদের জন্য আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

​১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টিসিবির কার্যক্রম মূল্যায়ন শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান। ডিজিটাল রূপান্তরের এই নতুন উদ্যোগের ফলে কার্ডধারী ভোক্তারা সহজে তাদের প্রাপ্য পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন এবং ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমে যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

​অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে টিসিবি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন।”

​তিনি আরও বলেন, “সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেট ও চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের মধ্যে ব্যবধান যত কম হবে, ততই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও কস্ট নির্ধারণের দক্ষতা প্রতিফলিত হবে। এজন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার, প্রতিবেশী দেশের মূল্যপ্রবণতা এবং অতীতের বাজারতথ্য বিশ্লেষণ করে আরও নির্ভুল কস্ট এস্টিমেট প্রস্তুত করা হবে।”

​আতাউর রহমান খান সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, “দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। এতে একদিকে যেমন একচেটিয়া প্রবণতা কমবে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।”

তিনি আরও জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি কনসেপ্ট নোট প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি, অর্থ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

​অনুষ্ঠানে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ বলেন, “টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি কার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য পণ্যের বাস্কেটে আরও প্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

​তিনি আরও জানান, বরিশাল, রাজশাহী ও ঢাকায় মডেল স্টোর স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে এরই মধ্যে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা চালু হলে কার্ড স্ক্যানের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়, টিসিবির ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্যের সঙ্গে সাবান ও ডিটারজেন্ট পণ্য ক্রয় সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক; ভোক্তাদের জন্য এ ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

​বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। টিসিবির সামগ্রিক সেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে এবং সরকারি সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে এই সমন্বয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর, ক্রয়ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারী অন্যান্য কর্মকর্তারা।
​//ডিবিটেক/ডিএমও/এসএমই//