রুফটপ সোলারে সাড়ে ১০ টাকায় বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

সংসদ ভবন আসছে সৌরবিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের আওতায়

  • জাতীয় সংসদ ভবনকে কয়েক মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • আগামী ছয় মাসে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকায় বিদ্যুৎ কিনে তিন বছর চালু রাখবে সরকার
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামে কর মওকুফ, লিথিয়াম ব্যাটারির মান নির্ধারণ এবং ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা আসছে

সংসদ ভবন আসছে সৌরবিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের আওতায়
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৩  

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে গ্রিন এনার্জি রূপান্তরের অংশ হিসেবে আগামী কয়েকমাসের মধ্যে দেশের জাতীয় সংসদ ভবনকে পূর্ণাঙ্গ সৌরবিদ্যুৎ (সোলার পিভি সিস্টেম) অবকাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে রুফটপ সোলার স্থাপন উৎসাহিত করতে উৎপাদিত গ্রিন বিদ্যুৎ নির্ধারিত উচ্চমূল্যে জাতীয় গ্রিডে কিনে নেওয়ার মেগা নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরি মনির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব প্রকৌশল ও নীতিগত পরিকল্পনার কথা জানান।

জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে কার্বন নির্গমন কমানোর রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ওপর থেকে আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ের আয়কর পরিহার করা হয়েছে। ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে রুফটপ সোলার স্থাপন সম্প্রসারণে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যেসব ভোক্তা বা প্রতিষ্ঠান ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপন করবেন, তাদের কাছ থেকে সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা (সাড়ে ১০ টাকা) দরে কিনবে। এই নেট মিটারিং ও ক্রয় সুবিধা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বলবৎ থাকবে।

এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ে দেশের সকল সরকারি স্থাপনা ও দফতরগুলোতে সমন্বিত রূপরেখায় 'জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি' গ্রহণ করা হয়েছে।

গ্রিন এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের আধুনিকায়নে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির প্রকৌশলগত মানদণ্ড নির্ধারণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বাজারে প্রচলিত লিথিয়াম ব্যাটারির প্রযুক্তিগত স্ট্যান্ডার্ড বা কারিগরি মান সরকার সুনির্দিষ্টভাবে ফিক্স করে দেবে। পরিবেশবান্ধব এই রূপান্তরে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে বিশেষ ব্যাংক ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব উদ্যোক্তা ও কারখানা বৃহৎ পরিসরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করবে, তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ট্যাক্স পুরোপুরি মওকুফ করা হয়েছে।

জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগামী ১০ বছরের একটি সমন্বিত রূপরেখা ও মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে কিছুদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী তা বিস্তারিতভাবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন।
//ডিবিটেক/ জেএনও/এসএমই//