রিভিউ: শাওমি রেডমি নোট ১৭ ফাইভজি

রিভিউ: শাওমি রেডমি নোট ১৭ ফাইভজি
১৩ আগষ্ট, ২০২৬ ১৬:৫৪  
১৩ আগষ্ট, ২০২৬ ১১:২৯  

বাজেট ও মাঝারি দামের স্মার্টফোনের বাজারে শাওমির রেডমি নোট সিরিজ সবসময়ই ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাজারে এসেছে শাওমি রেডমি নোট ১৭ ফাইভজি। নতুন এই ফোনটিতে মূল আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে একটি দানবীয় ক্ষমতার ব্যাটারি ও সুবিশাল ডিসপ্লে। তবে বাজার পরিস্থিতির কারণে আগের সংস্করণের তুলনায় কিছু জায়গায় ছাড় দিতে হয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে। দৈনিক ব্যবহার, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং বড় পর্দায় ভিডিও কিংবা কনটেন্ট উপভোগের ক্ষেত্রে ফোনটি কেমন পারফর্ম করছে, তা নিয়ে এই বিস্তারিত পর্যালোচনা।

আকর্ষণীয় নকশা ও উন্নত ডিসপ্লে
ডিজাইনের দিক থেকে শাওমি রেডমি নোট ১৭ ফাইভজি ফোনে আগের মডেলের তুলনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর চারপাশের ফ্ল্যাট বা সমতল ফ্রেম এবং পেছনের আকর্ষণীয় ফিনিশিং হ্যান্ডসেটটিকে আধুনিক রূপ দিয়েছে। ডিসপ্লে সুরক্ষায় এতে ব্যবহার করা হয়েছে গরিলা গ্লাস সেভেন-আই এবং ধুলোবালি ও পানির হালকা ঝাপটা থেকে সুরক্ষার জন্য রয়েছে আইপি৬৫ রেটিং। 

ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে একটি বিশাল ৭.০ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যার রেজ্যুলিউশন ১০৮০ বাই ২৩৯৬ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। পর্দাটি যথেষ্ট উজ্জ্বল এবং এর সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১৮০০ নিটস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে বড় ডিসপ্লে ও ব্যাটারির কারণে ফোনটির ওজন ২২৫ গ্রাম, যা এক হাতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ভারী মনে হতে পারে। এ ছাড়া পর্দার নিচে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রয়েছে অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

প্রসেসর ও সফটওয়্যার পারফরম্যান্স
প্রসেসর ও গতিশীলতার ক্ষেত্রে ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ৪ প্রসেসর। আগের সংস্করণ রেডমি নোট ১৫ ফোনের তুলনায় এই প্রসেসরটি কিছুটা কম শক্তিশালী হলেও দৈনন্দিন কাজ, ব্রাউজিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাধারণ অ্যাপ চালনার ক্ষেত্রে এটি স্বাচ্ছন্দ্যময় পারফরম্যান্স দেয়। 

মেমোরি ও স্টোরেজের ক্ষেত্রে ফোনটি ৬ জিবি ও ৮ জিবি র‍্যামের পাশাপাশি ১২৮ জিবি ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে বাজারে এসেছে। সফটওয়্যার অংশে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এতে রয়েছে সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক শাওমির নিজস্ব ইউজার ইন্টারফেস হাইপারওএস ৩। নতুন এই ইন্টারফেসটির কাজের গতি বেশ ভালো এবং ব্যবহারকারীর জন্য এটি বেশ পরিচ্ছন্ন ও সহজবোধ্য।

ক্যামেরা ও সাউন্ড সিস্টেম
ফটোগ্রাফির জন্য শাওমি রেডমি নোট ১৭ ফাইভজি ফোনের পেছনে রয়েছে একটি মাত্র ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা। এতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা ওআইএস সুবিধা না থাকলেও পর্যাপ্ত আলোতে এটি দিয়ে বেশ সুন্দর ও স্পষ্ট ছবি তোলা যায়। তবে আলো কম থাকলে ছবির সূক্ষ্ম বিস্তারিত তথ্য এবং ডাইনামিক রেঞ্জে কিছুটা সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে যুক্ত করা হয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। 

প্রসেসরের সীমাবদ্ধতার কারণে ভিডিও রেকর্ডিং সর্বোচ্চ ১০৮০ পিক্সেল এবং ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হেঁটে ভিডিও করার সময় ভিডিওতে কাঁপুনির প্রভাব স্পষ্ট বোঝা যায়। শব্দের জন্য ফোনটির নিচের অংশে একটি সিঙ্গেল মনোনরাল স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে, যা গড়পড়তা মানের শব্দ তৈরি করে।

দানবীয় ব্যাটারি ও চার্জিং গতি
এই হ্যান্ডসেটটির সবচেয়ে বড় বিক্রয়যোগ্য আকর্ষণ হলো এর সুবিশাল ৮০০০ এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি। সাধারণ স্মার্টফোনে সচরাচর এত বড় ব্যাটারি দেখা যায় না। পরিমিত শক্তির প্রসেসর হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারে এই ফোন অনায়াসে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত চার্জ ধরে রাখতে পারে। যারা সারাদিন রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি সার্ভিস বা মানচিত্র দেখে বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এই ব্যাটারি ব্যাকআপ অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। 

দ্রুত চার্জের জন্য এতে ৪৫ ওয়াটের চার্জিং সাপোর্ট রাখা হয়েছে এবং ফোনের সাথে দ্রুতগতির চার্জারও সরবরাহ করা হয়। এই চার্জারের সাহায্যে প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে পুরো ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করা সম্ভব। পাশাপাশি অন্য ডিভাইস চার্জ করার জন্য এতে রয়েছে ২২.৫ ওয়াটের রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তি।

চূড়ান্ত মতামত ও সিদ্ধান্ত
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শাওমি রেডমি নোট ১৭ ফাইভজি একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবহারকারী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বাজারে আনা হয়েছে। যাদের মূল অগ্রাধিকার হলো দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ, বড় ডিসপ্লে এবং দৈনন্দিন কাজের নির্ভরযোগ্যতা, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে। তবে যারা ভারি গেমিং, পেশাদার মানের ফটো ও ভিডিওগ্রাফি কিংবা স্টেরিও সাউন্ড প্রত্যাশা করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রসেসর ও সিঙ্গেল ক্যামেরার সীমাবদ্ধতা অনুভব হতে পারে। তা সত্ত্বেও, বাস্তবমুখী প্রয়োজন ও বাজেট বিবেচনায় দীর্ঘ ব্যাকআপের স্মার্টফোন হিসেবে বাজারে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী।

ডিবিটেক/বিএমটি