১১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন; পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সচেতনতামূলক সেশন
চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইউনিলিভার, চসিক ও ইপসার সচেতনতা উদ্যোগ
- চট্টগ্রাম নগরে প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বর্জ্য পৃথকীকরণের অভ্যাস গড়তে সচেতনতামূলক আয়োজন
- ৪১টি ওয়ার্ডে কার্যক্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত
- ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা প্রশিক্ষণ, ২ হাজার জনকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং ১৮২৭ জনকে গ্রুপ বিমার আওতায় আনয়ন
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্লাস্টিক দূষণের পরিবেশগত ঝুঁকি, সঠিক বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং এর আধুনিক ব্যবস্থাপনা কৌশল তুলে ধরেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান। তিনি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট বর্জ্যপাত্রে প্লাস্টিক ফেলা, রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল নীতির চর্চা এবং ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে প্লাস্টিকের দায়িত্বশীল ব্যবহারের আহ্বান জানান।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম মহানগরে প্লাস্টিক সার্কুলারিটি তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করছে এই তিন প্রতিষ্ঠান। চলমান এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত চসিকের আওতাধীন ১১১টি স্কুল ও মাদ্রাসায় তিন রঙের আধুনিক বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১১ হাজার ৫০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে সরাসরি সচেতনতার বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবার ও স্থানীয় কমিউনিটিতে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো উন্নয়নেও প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। চট্টগ্রাম নগরের ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে পরিচালিত এই সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দিতে ৩ হাজার বর্জ্যকর্মী ও ২২০ জন ভাঙারি ব্যবসায়ীকে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মৌলিক ব্যবসার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রায় ২ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং ১ হাজার ৮২৭ জনকে গ্রুপ জীবন বিমার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রায় ২৮ হাজার পরিবারের মাঝে বর্জ্য আলাদা করার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এস এম তারেক সাইফুল্লাহ এবং ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা।
//ডিবিটেক/ এসকেজেএম/এসএমই//





