NLDC-এর SCADA/EMS-এ যুক্ত হবে আট সঞ্চালন লাইন

জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর

  • রূপপুরের দুই ইউনিটের তথ্য NLDC-এর SCADA/EMS-এ যুক্ত হচ্ছে
  • ৪০০ ও ২৩০ কেভি GIS-এর গুরুত্বপূর্ণ সংকেতও যুক্ত হবে
  • কমিশনিং এগিয়ে নিতে দ্রুত ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করার উদ্যোগ

জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩১  

দেশের জাতীয় গ্রিডের আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্রটির ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (GIS) সাবস্টেশনের প্রয়োজনীয় তথ্য জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (NLDC) SCADA/EMS ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা হবে।

এ লক্ষ্যে ২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) ও GE Vernova-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চুক্তির আওতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটের মোট ৮টি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি GIS সাবস্টেশনের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ও তথ্য NLDC-এর SCADA/EMS ব্যবস্থায় ইন্টিগ্রেট করা হবে।

এর ফলে রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংকেত জাতীয় গ্রিড পরিচালনার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে এসব তথ্য পর্যবেক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানাগেছে। 

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ইন্টিগ্রেশন
SCADA বা Supervisory Control and Data Acquisition ব্যবস্থা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিভিন্ন উপাদান থেকে বাস্তবসময়ের তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে Energy Management System (EMS) জাতীয় গ্রিডের মতো বৃহৎ বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় উৎপাদন, চাহিদা ও গ্রিড পরিচালনার তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়।

GE Vernova-এর প্রযুক্তিগত বর্ণনা অনুযায়ী, SCADA নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা, ভোল্টেজ, লোড ও সুইচিং-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে; আর EMS গ্রিড-ব্যাপী ভারসাম্য ও পরিচালনার কাজে এসব তথ্য ব্যবহার করে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রূপপুরের সঞ্চালনব্যবস্থাকে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার অর্থ হলো, কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট সঞ্চালন অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য NLDC-এর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় দৃশ্যমান থাকবে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্যভাবে সঞ্চালন এবং কেন্দ্রটির কমিশনিং ও পরবর্তী অপারেশনাল কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই ইন্টিগ্রেশনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও ব্যবহৃত হচ্ছে
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, NLDC-এর SCADA/EMS ব্যবস্থায় ইন্টিগ্রেশন কার্যক্রম GE Vernova-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রেই সম্পাদিত হয়ে থাকে।

এ প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে NLDC-এর SCADA/EMS ব্যবস্থায় সংযুক্ত করার কাজ GE Vernova-এর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে।

GE Vernova-এর ভারতীয় কার্যক্রমের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে Power Grid Company of Bangladesh-এর জন্য ঢাকায় SCADA/AEMS নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বাস্তবায়নের কাজের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

কমিশনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রূপপুর
বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর ফুয়েল লোডিং-পরবর্তী পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল ইউনিট-১-এ পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। ১২ মে পর্যন্ত ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন সম্পন্ন হয়। এরপর বিভিন্ন সিস্টেমের পরীক্ষা, ইন্সট্রুমেন্টেশন সংযোগ এবং নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের ধাপ শুরু হয়।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA) এর আগে ইউনিট-১-এর ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য কমিশনিং লাইসেন্সও দিয়েছিল। লাইসেন্স দেওয়ার আগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে রূপপুরের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ পোস্ট জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে ইউনিট-১ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুয়েল লোডিংয়ের পর শতাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও কিছু জটিল ও সংবেদনশীল পরীক্ষা চলছে।

অন্যদিকে ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জাগো নিউজের প্রতিবেদনে সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর আলোচনা এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

গ্রিডে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রস্তুতি
রূপপুর প্রকল্পে দুটি VVER-1200 ইউনিট রয়েছে, যার মোট স্থাপিত ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ইউনিট-১-এর ফুয়েল লোডিং শেষ হওয়ার পর রিঅ্যাক্টরকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার পর্যায়ে নেওয়া, ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন সিস্টেমের পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুর প্রকল্প এখন কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউনিট-১-এর স্টেজ-বি কার্যক্রমের মধ্যে ফুয়েল লোডিং ও ফিজিক্যাল স্টার্টআপ রয়েছে এবং রিঅ্যাক্টর ও প্রাইমারি সার্কিট পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কমিশনিং কার্যক্রম চলছিল।

এই পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে রূপপুরের সঞ্চালনব্যবস্থার তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে কেন্দ্রটির কমিশনিং থেকে পরবর্তী অপারেশন—দুই পর্যায়েই গ্রিড অপারেটরদের জন্য রূপপুরের সঞ্চালন অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

দ্রুত শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ
রূপপুরের নির্ধারিত কমিশনিং ও অপারেশনাল সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণের স্বার্থে SCADA/EMS ইন্টিগ্রেশন কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরু শুধু রিঅ্যাক্টর চালুর বিষয় নয়; উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে সঞ্চালনের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রান্সমিশন অবকাঠামো, সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত প্রস্তুতিও প্রয়োজন।

রূপপুরের আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি GIS সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য NLDC-এর SCADA/EMS-এ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সেই গ্রিড-সমন্বিত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ধাপ সম্পন্ন হবে।
//ডিবিটেক/ এনইএসএ/আরকেই/এমআইএসটি//