ঢাকা-নারিতা সংযোগ, তৃতীয় টার্মিনাল ও পর্যটনে জাপানি অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ

এভিয়েশন হাব হতে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

  • আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হতে জাপানের সহযোগিতা চায় সরকার
  • তৃতীয় টার্মিনালে ওআরএটি দ্রুত শুরুর উদ্যোগ
  • পর্যটনে জাপানি বিনিয়োগ ও বুদ্ধিস্ট ট্যুরিজমে অংশীদারত্ব চায় বাংলাদেশ

এভিয়েশন হাব হতে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৭  
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪৮  

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু, ঢাকা-নারিতা সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং পর্যটন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

২ সেপ্টেম্বর, বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে অভিনন্দন জানান জাপানি রাষ্ট্রদূত। জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের অগ্রযাত্রায় জাপানকে পাশে চায় সরকার।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি চালু হওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ বিমান যোগাযোগকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালুতে দ্রুত ORAT
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল-৩ যথাসময়ে উদ্বোধনে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, টার্মিনালটি সফলভাবে চালুর জন্য যত দ্রুত সম্ভব অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওআরএটি) কার্যক্রম শুরু করা জরুরি।

তিনি জানান, জাপানি সাব-ওয়ার্কিং গ্রুপের (এসডব্লিউজি) জমা দেওয়া প্রস্তাবের কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।

তৃতীয় টার্মিনালের সফল পরিচালনার জন্য লেটার অব অ্যাস্যুরেন্স নিয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কাজ চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঐতিহ্য ও বুদ্ধিস্ট পর্যটনে জাপানি বিনিয়োগ
বাংলাদেশে পাঁচ শতাধিক হেরিটেজ ট্যুরিজম স্পট রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।

এ ছাড়া বুদ্ধিস্ট ট্যুরিজমের উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী সরকার। জাপানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় হেরিটেজ ট্যুরিজমের উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করেন মন্ত্রী।

জবাবে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে জাপানের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
//ডিবিটেক/টিআইপি/এসএমই/এমআইএসটি//