রিয়েল-টাইম তথ্য ও এএনপিআর ভিডিও মামলার প্রস্তুতি; কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু

রাজধানীর ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর এবার ড্রোন নজরদারি

  • যানজটের উৎস শনাক্ত ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগে রাজধানীতে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ ডিএমপির।
  • ড্রোনে সংযুক্ত থাকবে লাউডস্পিকার সতর্কবার্তা ও অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) প্রযুক্তি।
  • তেজগাঁও ও উত্তরার পর ক্রমান্বয়ে সব ট্রাফিক বিভাগকে ড্রোনের কারিগরি পরিচালন প্রশিক্ষণ প্রদান।

রাজধানীর ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর এবার ড্রোন নজরদারি
PM piloting Drone
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৩৪  

রাজধানীতে তীব্র যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ট্রাফিক ক্যামেরার পর এবার আকাশপথে ড্রোন নজরদারি (সার্ভিলেন্স) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রিয়েল-টাইম ট্রাফিক মনিটরিং এবং আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্তকরণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ইতোমধ্যে ট্রাফিক বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ড্রোন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত হলে চলতি মাসের শেষভাগেই রাজপথে এ প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের যানজটপ্রবণ এলাকার তাৎক্ষণিক ডেটা সংগ্রহ করা হবে। অনেক সময় উড়ালসড়কগুলোতে যানজট লাগলে নিচ থেকে তার কারণ দ্রুত শনাক্ত করা যায় না। আকাশপথে নজরদারির ফলে যানজটের মূল উৎস দ্রুত চিহ্নিত করে মাঠপর্যায়ের ট্রাফিক পুলিশকে ওয়াকিটকিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা পাঠানো সহজ হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, ড্রোনগুলোতে ভয়েস ও লাউডস্পিকারের ব্যবস্থা থাকবে, যার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী চালকদের ওপর থেকে সরাসরি সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। পরবর্তী ধাপে এতে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) প্রযুক্তি যুক্ত করে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সরাসরি ট্রাফিক মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, উন্নত বিশ্বে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ড্রোনের নিয়মিত ব্যবহার থাকলেও বাংলাদেশের জন্য এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন পরিচালনা করে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। তবে ইন্টারনেট ও ক্লাউড সার্ভারনির্ভর হওয়ায় এই প্রযুক্তি নির্বিঘ্নে পরিচালনায় ডেডিকেটেড নেটওয়ার্ক স্পেস ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ডিএমপি সূত্র বলছে, ড্রোনের মাধ্যমে এখনই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মামলা রুজু করা হবে না। প্রতিটি ফুটেজ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা ও ম্যানুয়ালি যাচাই-বাছাই করবেন, যাতে কোনো চালক বা নাগরিক হয়রানির শিকার না হন। ট্রাফিক পুলিশের মূল লক্ষ্য মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং চালকদের সড়ক আইন মানতে অভ্যস্ত করা।

এদিকে ড্রোন ওড়ানো ও ফুটেজ মনিটরিংয়ে সক্ষমতা তৈরিতে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ ও উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ক্রমান্বয়ে রাজধানীর অন্যান্য জোনের কর্মকর্তাদেরও এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে ১টিসহ মোট ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যালিং সিস্টেম চালু করেছে ডিএমপি।
//ডিবিটেক/ বিটিও/এসএনএপি /এসএমই//