ওয়েব ভার্সনে অ্যাকাউন্ট টেমপোরাররি আন অ্যাভেইলেবল দেখাচ্ছে
ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে হঠাৎ চরম বিভ্রাট
- মেটার প্ল্যাটফর্মে বৈশ্বিক কারিগরি ত্রুটি
- নিউজফিড ও বার্তা আদান-প্রদান ব্যাহত
- বাংলাদেশে বিপুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী
হঠাৎ করেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছেন অনেক ব্যবহারকারী। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে সম্পূর্ণ অচল অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। মোবাইল অ্যাপে সমস্যা না থাকলেও ওয়েব ভার্সনে বার্তা পাঠানো, নিউজফিড দেখার ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সমস্যা। সেখানে অ্যাকাউন্ট টেমপোরাররি আন অ্যাভেইলেবল দেখাচ্ছে। টেকনিক্যাল ত্রুটি বা ব্যাকএন্ড অবকাঠামোগত আপডেটের কারণে বাংলাদেশে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে হঠাৎ বিশ্বব্যাপী বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী সেবা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ডাউনডিটেক্টর এর তথ্য অনুযায়ী এই বিভ্রাট শুরু হয়েছে। মেটার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো হয়নি। ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। তবে এই সমস্যা ফেসবুক ওয়েব ভার্সনে দেখা যাচ্ছে।
১৯ জুলাই, রবিবার দুপুর ১টা ৪০-এর পর থেকেই অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে শুরু করেন। অনেকের ক্ষেত্রে ফেসবুক খুললেও নতুন পোস্ট লোড হচ্ছে না, আবার মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তা যাচ্ছে না বা দীর্ঘ সময় ধরে ‘সেন্ডিং’ দেখাচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী অটো লগআউট হয়ে যাচ্ছেন এবং নতুন করে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন না।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সেবা বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব শুধু বিনোদন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বর্তমানে অনেক ছোট ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা, সংবাদমাধ্যম ও ফ্রিল্যান্সাররা ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কয়েক ঘণ্টার সমস্যাও তাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ফেসবুক-মেসেঞ্জারের মতো বড় প্ল্যাটফর্মে সাময়িক সমস্যা তৈরি হলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্রুত উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মেটার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্যার কারণ বা সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের অপেক্ষা করা ছাড়া তেমন কোনো বিকল্প নেই।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসের তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ৫০০, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪২.৫ শতাংশ। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান 'নেপোলিয়নক্যাট'-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ব্যবহারকারীর মধ্যে পুরুষ ৬২.৬% এবং নারী ৩৭.৪%। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী গোষ্ঠী হলো ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে নারী ও পুরুষের ব্যবহারের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি, যেখানে পুরুষরা এগিয়ে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের এই দিনে দেশে ইন্টারনেট সেবা কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছিল, তবে ফ্যাসিজমের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইন্টারনেট বন্ধ আইন করে নিষিদ্ধ করে।
//ডিবিটেক/ আইএইচ/এমএসআই//





