ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, ২ বছরেও শুরু হয়নি খনন কাজ
সিলেট: দেশে গ্যাসের অন্যতম প্রধান অঞ্চল (স্থলভাগ) সিলেট। এই অঞ্চলে নতুন নতুন গ্যাসের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যথাসময়ে অনুসন্ধান ও উত্তোলন না হওয়া এবং নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়ার মেয়াদ পার হলেও প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান কোনো রূপ দেখা যায়নি। ফলে দেশে গ্যাস সংকট তীব্র হচ্ছে। গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সিলেটের জৈন্তাপুরের ঢুপিটিলা-১ ও […] The post ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, ২ বছরেও শুরু হয়নি খনন কাজ first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

সিলেট: দেশে গ্যাসের অন্যতম প্রধান অঞ্চল (স্থলভাগ) সিলেট। এই অঞ্চলে নতুন নতুন গ্যাসের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যথাসময়ে অনুসন্ধান ও উত্তোলন না হওয়া এবং নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়ার মেয়াদ পার হলেও প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান কোনো রূপ দেখা যায়নি। ফলে দেশে গ্যাস সংকট তীব্র হচ্ছে।
গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সিলেটের জৈন্তাপুরের ঢুপিটিলা-১ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৈলাসটিলা-৯ অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেয় পেট্রোবাংলা। এ দু’টি কূপ যথা সময়ে খনন করা গেলে ১০ বছরে মোট ৫৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদের কথা জানিয়েছিল পেট্রোবাংলার সাবসিডিয়ারি সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (এসজিএফএল)।
পেট্রোবাংলার দাবি, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কূপ খনন করা যায়নি। এখন নতুন করে এ প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে এসজিএফএল। যদিও কাগজে-কলমে প্রকল্পের ১৬ শতাংশ কাজের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে এসজিএফএলের আওতায় ৫৬ বিসিএফ গ্যাস মজুদের সম্ভাবনাময় ডুপিটিলা-১ ও কৈলাসটিলা-৯ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর। দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মেয়াদ গত সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়েছে।

সিলেটে আবিষ্কৃত নতুন গ্যাস কূপ। ছবি: সংগৃহীত
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য যে ভূমি অধিগ্রহণ করার কথা ছিল, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করা যায়নি। মূলত জমি অধিগ্রহণে স্থানীয়দের বাধা, সংযোগ সড়ক নির্মাণে ধীরগতিসহ নানা কারণে প্রকল্পে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢুপিটিলা-১ ও কৈলাসটিলা-৯ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ প্রকল্পে ৬৪৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির ব্যয় ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ১৬ শতাংশ। প্রকল্পটি অনুমোদন করা হলেও স্থানীয়দের সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে অগ্রগতি নেই বলে প্রকল্পের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দু’টি কূপের ভূমি পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের শুরু থেকেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভূমি। ডিপিপিতে কূপ দুটির জন্য ভূমি হুকুমদখলের বিধান রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ডুপিটিলা-১ কূপের জমির মালিকদের আপত্তির মুখে প্রক্রিয়াটি আটকে যায়। একই বছরের নভেম্বরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি হলেও ভূমির মালিকরা তা গ্রহণে আপত্তি জানান।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন হুকুমদখলের পরিবর্তে জমি অধিগ্রহণের পক্ষে মত দেয়। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় দুই কূপের জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। কিন্তু সিদ্ধান্তের পরও সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় গতি আসেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢুপিটিলা-১ কূপের ৭৮৩ মিটার সংযোগ সড়কের মধ্যে মাত্র ২৩২ মিটার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছোট সেতুও রয়েছে। অবশিষ্ট ৫৫১ মিটারে সেতু ও কালভার্টের কাজ চলমান। এ ছাড়া, কূপের জন্য সাইটে বালি ভরাট করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৈলাসটিলা-৯ কূপে ভূমি উন্নয়ন করা হয়নি। কোনো বাস্তব অগ্রগতিও দেখা যায়নি।

সিলেটের গ্যাস কূপ। ছবি: সংগৃহীত
ঢুপিটিলা-১ ও কৈলাসটিলা-৯ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন প্রায় ৪১৪ কোটি ৭৮ লাখ ও এসজিএফএলের নিজস্ব অর্থ ২৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ঢুপিটিলা কাঠামোয় প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ মিটার ও কৈলাশটিলায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় অনুসন্ধান চালানো হবে।
নতুন কূপ খননে গ্যাস পাওয়া গেলে কূপ দুটি থেকে প্রথম পাঁচ বছরে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট হারে অর্থাৎ ১০ বছরে মোট ৫৬ বিসিএফ গ্যাস উৎপাদন করা যাবে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় গ্যাস পাওয়া গেলে গ্যাদারিং পাইপলাইন নির্মাণ, নিরাপত্তা স্থাপনা, ড্রেন, সীমানাপ্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু, অনুসন্ধান কূপ খননের পূর্বশর্ত ভূমি ও সংযোগ অবকাঠামোর কাজই পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় মূল খনন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর বাড়াতে গত ৯ সেপ্টেম্বর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় এসজিএফএল। নানা যাচাই-বাছাই শেষে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পিইসি সভায় ওঠে প্রকল্পটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প ও শক্তি বিভাগের তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ উইংয়ের যুগ্ম প্রধান মো. নজরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘কূপ দু’টির বিষয়ে পুনরায় ডিপিপি এসেছে। সেটি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিইসি বৈঠক হয়েছে। প্রকল্প দু’টির সময় বাড়াতে ও ব্যয় পর্যালোচনা করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’
উল্লেখ্য, সিলেট বিভাগের জৈন্তাপুর ও গোলাপগঞ্জ জেলায় ডুপিটিলা-১ ও কৈলাশটিলা-৯ নম্বর কূপ (অনুসন্ধান কূপ) খনন করে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেলে প্রথম ৫ বছরে দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে এবং পরবর্তী ৫ বছরে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড লাইনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে, যা দেশের এবং ওই প্রতিষ্ঠানের আর্থিকও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
The post ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, ২ বছরেও শুরু হয়নি খনন কাজ first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





