কর্মীদের তীব্র আপত্তিতে সিদ্ধান্ত পাল্টালো মেটা

কর্মীদের তীব্র আপত্তিতে সিদ্ধান্ত পাল্টালো মেটা
৩ জুন, ২০২৬ ২০:৪০  
৩ জুন, ২০২৬ ১৫:২৩  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কম্পিউটার স্ক্রিনের মাউস মুভমেন্ট, ক্লিকের ধরন এবং কিবোর্ডের কি-স্ট্রোক (টাইপিং)-এর মতো অত্যন্ত ব্যক্তিগত ডিজিটাল কার্যক্রম ট্র্যাক করার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে আংশিক পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং অভ্যন্তরীণ আপত্তির মুখে গত মঙ্গলবার এক অফিসিয়াল মেমোতে এই পিছু হটার ঘোষণা দেয় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠানটি।

মেটার ‘সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ (এআই মডেল বিল্ডিং ইউনিট)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিফেন ক্যাস্রিয়েলের পাঠানো ওই মেমো অনুযায়ী, কর্মীদের আপত্তির মুখে সিস্টেমে কিছু নতুন নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে মেটার কর্মীরা চাইলে যেকোনো সময় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের জন্য এই ট্র্যাকিং বা ডেটা সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে বন্ধ বা পজ করে রাখতে পারবেন। এর পাশাপাশি যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শিয়ে যেকোনো কর্মী এই বাধ্যতামূলক ট্র্যাকিং উদ্যোগ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি বা ছাড় পাওয়ার জন্য আবেদন করার সুযোগও পাবেন।

এই ট্র্যাকিং সফটওয়্যারটির কারণে কর্মীদের ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের ব্যাটারি ব্যাকআপ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছিল এবং এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে এত বিপুল পরিমাণ ডেটা খরচ করছিল যে ঘরে বসে কাজ করা বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ থাকা কর্মীদের ব্যক্তিগত ইন্টারনেট বিল আকাশচুম্বী হয়ে উঠছিল। 

কর্মীদের এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ক্যাস্রিয়েল মেমোতে লিখেছেন যে, সফটওয়্যারটির ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা খরচ এবং ব্যাটারির ওপর চাপ কমাতে তাদের কারিগরি টিম ইতিমধ্যে সিস্টেমে বেশ কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন বা অপ্টিমাইজেশন এনেছে। 

কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, “শুরুতে এই প্রযুক্তি চালুর সময় আমরা বেশ কয়েক স্তরের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলাম। তারপরও কাজের ডিভাইসে আপনাদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, ব্যাটারির স্থায়িত্ব এবং এই ট্র্যাকিংয়ের ওপর আপনাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার যে যৌক্তিক উদ্বেগগুলো আমরা শুনতে পেয়েছি, তাকে আমরা সর্বোচ্চ সম্মান জানাচ্ছি।” মেটা-র একজন মুখপাত্র অবশ্য এই অভ্যন্তরীণ মেমোর বিষয়ে রয়টার্সের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মেটা গত মাসে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কর্মীদের কম্পিউটারে এই বিশেষ ট্র্যাকিং সফটওয়্যারটি ইনস্টল করার বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিয়েছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল কর্মীদের দৈনন্দিন কাজের নিখুঁত ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহ করে এমন এক শক্তিশালী স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কর্মী তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিখুঁতভাবে করপোরেট বা অফিসের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

মেটাতে চলমান ব্যাপক অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই ট্র্যাকিং সফটওয়্যারটি চালু করায় কর্মীরা চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অনেকেই মেটা-কে একটি সাধারণ টেক কোম্পানির বদলে ‘এমপ্লয়ি ডেটা এক্সট্রাকশন ফ্যাক্টরি’ বা কর্মী তথ্য চিপে নেওয়ার কারখানা হিসেবে আখ্যায়িত করতে শুরু করেন। 

সাইবার আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্মীদের ওপর এই নজরদারির ঘটনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে মেটার আইনি ও রেগুলেটরি জটিলতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে; কারণ ইউরোপের ডেটা সুরক্ষা আইনে কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য অধিকার নিয়ে অত্যন্ত কঠোর বিধিমালা রয়েছে।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: রয়টার্স