কৃষকে সেবার রুটসোর্স নিয়ে নাসা চ্যালেঞ্জে ডুয়েটের ব্লুডট

কৃষকে সেবার রুটসোর্স নিয়ে নাসা চ্যালেঞ্জে ডুয়েটের ব্লুডট
৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:১২  
৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:২৩  
কৃষকের জন্য মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে এবার নাসা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৫-এর গ্লোবাল নামিনেশন পেয়েছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের দল ‘ব্লুডট’ (BlueDot)। এই দলের সদস্যরা হলেন — রাফিউজ্জামান রাফি, এস. এম. মোহায়মেনুল ইসলাম, মোহতামিম হক, সিয়াম শেখ, নিশান দাস ও অভিজিৎ মণ্ডল। প্রকল্পের মেন্টর হিসেবে ছিলেন ইন্সপায়রিং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান ফাহাদ। তার অনুপ্রেরণায় রুটসোর্স (RootSource) নামে একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে তারা। 
জাতীয় রাউন্ডে নাসার স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে কৃষকদের জন্য একটি সহজবোধ্য ও কার্যকর সহায়ক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ডুয়েটের ব্লুডট। বিশ্বজুড়ে কৃষকরা অনিশ্চিত আবহাওয়া, ফসলহানি, ঋণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অথচ নাসার স্যাটেলাইটগুলো ইতোমধ্যে মাটির আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, উদ্ভিদের স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করে। কিন্তু এই মূল্যবান তথ্য কৃষকের নাগালের বাইরে থাকায় তারা সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। RootSource সেই জটিল বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলোকে কৃষকের জন্য সহজ ও ব্যবহারযোগ্য ভাষায় উপস্থাপন করে।
প্রকল্পটি মূলত নাসার সহযোগিতায় তৈরি একটি কৃষি-ভিত্তিক গবেষণামূলক সিস্টেম, যেখানে নাসার SMAP, GPM, MODIS, LANDSAT, GRACE ও POWER সহ বিভিন্ন কৃষি ও আবহাওয়া স্যাটেলাইটের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর পরামর্শব্যবস্থা — যা কৃষকদেরকে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
এই প্রকল্পটি দিয়ে বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে জমা পড়া ১১ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্রকল্পের মধ্যে স্থান পেয়ে এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এর আগে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ (AIUB), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম-এর সহযোগিতায় নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের নয়টি আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল থেকে গ্লোবাল রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত সাতটি দলের একটি হলো ডুয়েটের টিম ব্লুডট।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের বাংলাদেশ পর্বে বিজয়ী হলেন যারা

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে ‘লুনার ভিআর প্রজেক্ট’ বেস্ট ইউজ অব ডাটা ক্যাটাগরিতে চাঁদে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিবে এমন ভার্চুয়াল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম অলীক। ২০২১ সালে ‘বেস্ট মিশন কনসেপ্ট’ ক্যাটাগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট) সম্মিলিত দল ‘টিম মহাকাশ’ এবং ২০২২ সালে "টিম ডায়মন্ডস" - "সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক" বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। এবং নাসা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩-এর বেস্ট স্টোরিটেলিং ক্যাটাগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের টিম ভয়েজার্স।

ডিবিটেক/ডিএসএস/ইক/