বিদ্যুৎ বিলের ভিডিও পোস্টের পর পুরোনো মামলায় গ্রেফতার নিয়ে বিতর্ক
সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি ও সাইবার আইনি বিতর্ক
- বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক ভিডিও প্রকাশের পর গাজীপুর থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ
- পুলিশের দাবি তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনাকারী; অন্যদিকে তিনি এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী বলে দাবি করেছে নাগরিক পার্টি
- আইনজীবী ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাইবার স্পেসে শালীনতার সীমা এবং
বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ভিডিও পোস্টের পর গাজীপুর থেকে আটক সিফাত আব্দুল্লাহকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের তিন মাস পুরোনো একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় আইনি ও প্রযুক্তিগত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে দেশেী বিদেশী মূলধারার মিডিয়াগুলোও।
খবরে প্রকাশ, ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বিল অতিরিক্ত আসার অভিযোগ তুলে সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য দেন সিফাত আব্দুল্লাহ। মুহূর্তের মধ্যে অ্যালগরিদমিক গতিতে ভিডিওটি ভাইরাল হলে ওই দিন রাতেই তাকে গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের কারণে আটকের কথা জানানো হলেও ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয় গত জুনে দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায়।
এই আটকের প্রেক্ষাপট ও ডিজিটাল প্রমাণের বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি-কে জানান, অভিযুক্তকে মূলত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও সংগঠক হিসেবে পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও পোস্টের বিষয়টিকে ‘গৌণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে ডিজিটাল আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে সিফাত আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিপরীতমুখী দাবি উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগের ডিজিটাল ও প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার দাবি করা হলেও তাকে আটকের পর গাছা থানার সামনে অবস্থান নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী নাছের খান জানান, সিফাত আব্দুল্লাহ এনসিপির সমর্থক এবং ইনকিলাব মঞ্চের সক্রিয় কর্মী হিসেবে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, সাইবার স্পেসে সরকারের সমালোচনা বন্ধ করতেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্ররোচনায় পুলিশ তাকে পুরনো মামলায় জড়িয়েছে। এছাড়া ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও তার মুক্তির দাবি তোলেন।
সামাজিক মাধ্যমের বাকস্বাধীনতা ও সাইবার এটিকেট বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কারও বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা বা মানহানির অবাধ অধিকার দেয় না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যে কারও বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আইনি সীমা বজায় রাখা আবশ্যক, অন্যথায় তা অপরাধের আওতায় পড়ে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এক অভিযোগে আটক করে ভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আইনি যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, সাইবার স্পেসে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অশালীনতা নিয়ন্ত্রণ যেমন জরুরি, তেমনি ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ করতে গিয়ে নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও ভিন্নমতের স্বাধীনতা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে প্রাতিষ্ঠানিক নজর রাখা প্রয়োজন।
//ডিবিটেক/ বিবিসি/এসএমই/এমএসআই//





