সবার জন্য বিনামূল্যে এআই পৌঁছে দিতে চায় কারেন্ট এআই

সবার জন্য বিনামূল্যে এআই পৌঁছে দিতে চায় কারেন্ট এআই
২০ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৫  

ইন্টারনেটের প্রারম্ভিক যুগের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকেও বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ ও বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে 'কারেন্ট এআই' নামের একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র বাণিজ্যিক আধিপত্য টেক্কা দিয়ে একটি উন্মুক্ত ও জনকল্যাণমুখী এআই অবকাঠামো গড়ে তোলাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে ওপেনএআই, গুগল কিংবা অ্যানথ্রপিকের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের তৈরি প্রায় প্রতিটি শীর্ষস্থানীয় এআই ব্যবস্থা কেবল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এসব ক্ষেত্রে মূলত ইংরেজি ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়ায় পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের শত শত স্থানীয় ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি ধীরে ধীরে ডিজিটাল দুনিয়ায় পিছিয়ে পড়ছে। এই তথ্য ও ভাষার বৈষম্য দূর করতেই ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'কারেন্ট এআই'। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থা মজিলা থেকে এসে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেন আয়া বদির।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জানান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ইন্টারনেট যেমন সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ছিল, এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও তেমন একটি সার্বজনীন বিকল্প থাকা প্রয়োজন। কেবল সিলিকন ভ্যালির হাতে পুরো পৃথিবীর প্রযুক্তি ও কোটি কোটি মানুষের তথ্য নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না।

এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগে তহবিল দিয়ে সহায়তা করছে ফ্রান্স সরকার, ফোর্ড ফাউন্ডেশন, ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশন, গুগল ডিপমাইন্ড এবং সেলসফোর্সের মতো সংস্থাগুলো। বর্তমানে তাদের মোট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি মার্কিন ডলার।

ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। ভারতে সরকারি এআই বিভাগের সাথে যৌথ উদ্যোগে তারা 'সুনো সূত্র' নামে পকেট আকারের একটি অফলাইন যন্ত্র তৈরি করেছে, যা কোনো ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই স্থানীয় ২২টি ভাষায় সেবা দিতে সক্ষম। এ ছাড়া কেনিয়া, লেবানন এবং ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের উপজাতিদের স্থানীয় ভাষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও তথ্য সুরক্ষায় সম্প্রতি ৩২ লাখ ডলারের অনুদান দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত এক সম্মেলনে সংস্থাটি 'আলফা চ্যাট' নামের একটি উন্মুক্ত উৎসের (ওপেন সোর্স) চ্যাটবট উন্মোচন করেছে। একই সাথে তারা জাপানের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে এশিয়া ও দক্ষিণ গোলার্ধের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য তথ্যের মালিকানা রক্ষা করে আঞ্চলিক এআই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।   সূত্র: টেকক্রাঞ্চ