রিমোটে কেন কয়েক যুগ পুরনো ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে?

রিমোটে কেন কয়েক যুগ পুরনো ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে?
২০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৩  

টেলিভিশন প্রযুক্তির আমূল পরিবর্তন হলেও টিভি রিমোট কন্ট্রোলে কয়েক দশক পুরোনো ইনফ্রারেড (আইআর) প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো বন্ধ হয়নি। ব্লুটুথের মতো আধুনিক প্রযুক্তি আসার পরও কেন প্রতিটি রিমোটে ইনফ্রারেড ফিচার রাখা হয়, তার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু ব্যবহারিক ও কারিগরি কারণ।

টেলিভিশন রিমোটের ইতিহাস বেশ দারুণ। ১৯৫০ সালে জেরিনিক (জেনিত) রেডিও কর্পোরেশন 'লেজি বোন্স' নামে প্রথম টিভি রিমোট আনে, যা তারের মাধ্যমে টিভির সাথে যুক্ত ছিল। এরপর ১৯৫৫ সালে আলো বা দৃশ্যমান আলোর রশ্মিভিত্তিক প্রথম ওয়্যারলেস রিমোট 'ফ্ল্যাশ-ম্যাটিক' বাজারে আসে। তবে আটের দশক থেকে ইনফ্রারেড প্রযুক্তি রিমোটের মূল মানদণ্ড হিসেবে জায়গা করে নেয় এবং গত চার দশক ধরে তা রাজত্ব করে আসছে।  

ইনফ্রারেড রিমোট মূলত একটি আলোর বিম বা অদৃশ্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করে টিভিতে সংকেত পাঠায়। এটি ব্যবহারে দুটি প্রধান সুবিধাসমূহ হলো, উৎপাদন খরচ অত্যন্ত কম এবং সর্বজনীন সামঞ্জস্যতা। পুরোনো কিংবা নতুন যেকোনো টিভি ও অডিও ডিভাইসের সাথে এটি সহজেই কাজ করতে পারে।  

বর্তমানে ভয়েস কন্ট্রোল বা বাতাসে নাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধাসহ অনেক ব্লুটুথ রিমোট বাজারে পাওয়া গেলেও সেগুলোতে ইনফ্রারেড যুক্ত থাকে। এর বড় কারণ হলো 'টিভি চালু করা' এবং 'প্রাথমিক পেয়ারিং'। ব্লুটুথ রিমোট কাজ করার জন্য টিভিতে সংযোগ বা পেয়ার করা আবশ্যক। প্রথমবার টিভি চালু করার সময় ব্লুটুথ সংযোগ থাকে না, তখন ইনফ্রারেড সিগন্যাল দিয়েই টিভি চালু করতে হয় এবং সংযোগ স্থাপন করতে হয়। এছাড়া স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকা টিভি ব্লুটুথ সংকেতের জন্য অপেক্ষা না করে ইনফ্রারেড সংকেত পেলেই সাথে সাথে চালু হয়ে যায়।  

পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি আধুনিক ব্লুটুথ রিমোট থেকে ব্লুটুথ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও সেটি নিজে থেকেই ইনফ্রারেড মোডে চলে যায় এবং সাধারণ কাজগুলো করতে থাকে।

যদিও ব্লুটুথের সুবিধা হলো সোজাসুজি টিভির দিকে রিমোট না ধরেও কাজ চালানো যায়, তবে ইনফ্রারেডের দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এবং বিকল্প নির্ভরযোগ্য মাধ্যম (ব্যাকআপ) হিসেবে এটি এখনো অপরিহার্য। ফলে আধুনিক রিমোটগুলোতে মূলত ব্লুটুথ ও ইনফ্রারেড উভয় প্রযুক্তিরই এক চমৎকার সহাবস্থান দেখা যায়।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।   সূত্র: এনগ্যাজেট