অনলাইন হয়রানি রোধে কঠোর আইন ও সাইবার ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আনছে সরকার

অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল বুলিং ও সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইন, সাইবার ক্রাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম, বিশেষ গোয়েন্দা ইউনিট এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ খাতে ২০২৬-২৭ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬৭.৬ কোটি টাকা।

অনলাইন হয়রানি রোধে কঠোর আইন ও সাইবার ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আনছে সরকার
২১ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৪  

অনলাইন হয়রানি, ঘৃণামূলক বক্তব্য, ডিজিটাল বুলিং এবং সাইবার সহিংসতা মোকাবিলায় নতুন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সাইবার সহিংসতা ও অনলাইন যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সাইবার অপরাধের দ্রুত তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করা, পাশাপাশি নারীর নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষায়িত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়ন প্রতিরোধে একটি পৃথক গোয়েন্দা ইউনিট এবং সাইবার ক্রাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম গঠন করা হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ নারী-বান্ধব সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তথ্য সুরক্ষা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়ন হ্রাস’ শীর্ষক কর্মসূচির জন্য ১৬৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নারী ও শিশু-বান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে জেন্ডার বাজেটিং-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা।

এদিকে, ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত করতে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৫ জুলাই সচিবালয়ে বৈঠক করেছে। বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংশোধনী ও সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং এবং ডিজিটাল অপরাধের বিস্তার রোধে আইনগত ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, জনসচেতনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা—এই চারটি বিষয় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
//ডিবিটেক/ইটিও/এনএ//