চোখের স্বস্তিতে স্মার্টফোন ব্যবহারে গুরুত্ব, উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে নির্মাতারা
স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য প্রযুক্তিপণ্য। অফিসের কাজ, অনলাইন শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও স্ট্রিমিং থেকে শুরু করে যাতায়াতের সময় বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইলের স্ক্রিন ব্যবহার করছেন মানুষ। ফলে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে চোখ রাখার কারণে চোখের ক্লান্তি, অস্বস্তি এবং ডিজিটাল ফ্যাটিগের মতো সমস্যার বিষয়টি এখন প্রযুক্তি শিল্পে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় চোখের ওপর চাপ সৃষ্টির অন্যতম কারণ হলো ডিসপ্লের সূক্ষ্ম ফ্লিকারিং বা ঝিলমিলানি। এটি সাধারণত খালি চোখে ধরা না পড়লেও কম উজ্জ্বলতায় বা অন্ধকার পরিবেশে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চোখের চাপ, মাথাব্যথা ও অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
এই সমস্যা কমাতে বিভিন্ন স্মার্টফোন নির্মাতা এখন উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির PWM (Pulse Width Modulation) Dimming প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তি ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণের সময় ফ্লিকারিং কমাতে সহায়তা করে, ফলে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হতে পারে।
সম্প্রতি বাজারে আসা কয়েকটি স্মার্টফোনে এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো মডেলে ২৩০৪ হার্টজ PWM ডিমিং প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, এই প্রযুক্তি ডিসপ্লের সূক্ষ্ম ঝিলমিলানি কমিয়ে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, ভিডিও দেখা বা রাতের বেলায় স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় চোখের স্বস্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া ডিভাইসটিতে মোশন সিকনেস রিলিফ নামের একটি সফটওয়্যার সুবিধাও রয়েছে। চলন্ত গাড়ি বা বাসে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় অনেক ব্যবহারকারীর চোখে অস্বস্তি বা মাথা ঘোরার অনুভূতি হয়। নির্মাতার দাবি, এই ফিচার স্ক্রিনে কনটেন্ট প্রদর্শনকে আরও স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে, যা যাত্রাপথে ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারে।
শুধু ইনফিনিক্স নয়, বর্তমানে অনর, শাওমি, ভিভো, অপো, রিয়েলমি এবং টেকনো-সহ বিভিন্ন স্মার্টফোন নির্মাতাও তাদের নতুন প্রজন্মের অ্যামোলেড ডিসপ্লে-সমৃদ্ধ ডিভাইসে উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির PWM ডিমিং প্রযুক্তি যুক্ত করছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন শিল্পে এখন কেবল প্রসেসর, ক্যামেরা বা ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা নয়, ব্যবহারকারীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাস্থ্যগত বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও গভীরে প্রবেশ করায় ডিসপ্লে প্রযুক্তির উন্নয়নেও চোখের আরাম ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তি থাকলেও দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিন ব্যবহার না করা, নির্দিষ্ট বিরতিতে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া, পর্যাপ্ত আলোতে ফোন ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সমন্বয় করা চোখের সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
//ডিবিটেক/ইএইচ/এসএমই//





