২০৩০ সালে ৫০ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ চাহিদা
বহুমুখী সাবমেরিন ক্যাবল ও রুট ডাইভার্সিটির তাগিদ, যুক্ত হতে পারে মংলাও
- বর্তমান ১২.১ টেরাবাইট ট্রাফিক ২০২৭ সালে ২০ টেরাবাইট হতে পারে
- ২০৩০ সালে চাহিদা পৌঁছাতে পারে ৫০ টেরাবাইটে
- চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটার পাশাপাশি খুলনার মংলাও হতে পারে বিকল্প সাবমেরিন ক্যাবল রুট সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ জরুরি
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ট্রাফিকের চাহিদা বর্তমান ১২ দশমিক ১ টেরাবাইট থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় ৫০ টেরাবাইটে পৌঁছাতে পারে। এই বিপুল চাহিদা পূরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগে একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল এবং বিকল্প আন্তর্জাতিক রুট নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
ইন্টারনেট সংযোগের স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় রুট ডাইভার্সিটির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। শুধু চট্টগ্রাম বা কুয়াকাটার ওপর নির্ভর না করে দেশের সাবমেরিন ক্যাবল অবকাঠামোয় ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন উপদেষ্টা।
তিনি জানান, কক্সবাজার ও কুয়াকাটার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে মংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে আরও একটি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ পয়েন্ট চালুর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
এর ফলে দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগে একাধিক অবতরণ পয়েন্ট ও বিকল্প রুট তৈরি হবে, যা ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট রুট বা অবতরণ পয়েন্টে সমস্যা হলে জাতীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে সচল রাখার সক্ষমতাও বাড়াতে পারে।
৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা উপস্থিত ছিলেন।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বিশ্বব্যাপী ডেটা ব্যবহারের প্রবণতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিও সঙ্গতিপূর্ণ। দেশে বর্তমানে প্রতিবছর ডেটা ব্যবহারের হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। এই প্রবৃদ্ধির হিসাবে প্রতি আড়াই বছরে দেশের ডেটা ট্রাফিক প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে।
বর্তমানে সারাদেশে মোট ইন্টারনেট ট্রাফিক ১২ দশমিক ১ টেরাবাইট। এর মধ্যে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ৫ দশমিক ২ টেরাবাইট ট্রাফিক পরিবাহিত হচ্ছে, যেখানে দেশের মোট সাবমেরিন ক্যাপাসিটি ৬ দশমিক ১ টেরাবাইট। অবশিষ্ট ট্রাফিক আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল কেবল বা আইটিসি রুটের মাধ্যমে ভারত হয়ে দেশে আসছে।
উপদেষ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের ব্যান্ডউইথ ট্রাফিক প্রায় ২০ টেরাবাইটে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় ৫০ টেরাবাইটে পৌঁছাতে পারে।
“সাবমেরিন ক্যাবল এমন অবকাঠামো নয় যে রাতারাতি বা ছয় মাসের মধ্যে অর্থ বরাদ্দ করে তৈরি করা সম্ভব। পারমিট, উপযুক্ত ভেসেল পাওয়া এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে একটি হাব থেকে মূল হাব পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনে ন্যূনতম দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে” -যোগ করেন তিনি।
তাই ২০৩০ সালের সম্ভাব্য ৫০ টেরাবাইট ট্রাফিক চাহিদাকে সামনে রেখে এখনই ব্যাক-ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কৌশল গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ১২ টেরাবাইট থেকে ৫০ টেরাবাইটে উন্নীত হওয়ার এই বিশাল চাহিদা কেবল এক বা দুটি সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এ খাতে এগিয়ে আসতে হবে।
সরকারি উদ্যোগের মধ্যে SEA-ME-WE-এর মতো সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন বা আইএফসি টিম বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশি ও বিদেশি বহু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল অবকাঠামোর এই উদীয়মান খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
//ডিবিটেক/ এনএপি/এমআইএস//





