নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ও গবেষণায় চুয়েটকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান
জ্বালানি নিরাপত্তায় উদ্ভাবনে গুরুত্ব
- জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান
- সৌর, বায়ু, হাইড্রোজেন ও কার্বন প্রযুক্তিতে গবেষণার তাগিদ
- প্রবাসী প্রকৌশলীদের জ্ঞান দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান
জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ হাইড্রোজেন, বৈদ্যুতিক যান ও কার্বন ব্যবস্থাপনার মতো প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। একই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসইতা ও উদ্ভাবন: এশিয়ার ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের লেকচারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, একটি দেশের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তার অর্থ হলো নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। এর আওতায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি রয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানির টেকসইতা হলো এমনভাবে জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার করা, যাতে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের সক্ষমতাও অক্ষুণ্ন থাকে।
তিনি বলেন, এই টেকসই ব্যবস্থার সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস, বৈদ্যুতিক যান, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজের মতো প্রযুক্তি সরাসরি যুক্ত। আর জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসইতা ও প্রযুক্তির এই সমন্বয়ে উদ্ভাবনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি খাতে প্রযুক্তিই হতে পারে পরিবর্তনের চালিকা
সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, উদ্ভাবনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরও সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করা সম্ভব। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করার ক্ষেত্রেও নতুন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, চুয়েটের মতো প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় এসব ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকৌশল দক্ষতাকে বাস্তব জ্বালানি সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষ করে ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তির পাশাপাশি শক্তি সঞ্চয়, বৈদ্যুতিক যান, সবুজ হাইড্রোজেন ও কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এসব প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্প ও সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
প্রবাসী প্রকৌশলীদের জ্ঞান কাজে লাগানোর আহ্বান
দেশের মানবসম্পদকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন এরশাদ উল্লাহ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক মেধাবী প্রকৌশলী, চিকিৎসক, গবেষক ও অন্যান্য পেশাজীবী ইউরোপ, আমেরিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
তার মতে, দেশের মেধাবী পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশের জ্ঞান যদি দেশীয় গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও শিল্পখাতে কাজে লাগানো যায়, তাহলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও দ্রুত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বাস্তব সমস্যার সমাধান
অনুষ্ঠানে চুয়েটের গবেষণা সক্ষমতা ও প্রকৌশল শিক্ষাকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু একাডেমিক গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে উপযোগী নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, দক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবহার, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ক্লাব ফেস্ট
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিন চুয়েটের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে ‘চুয়েট ক্লাব ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
উদ্বোধনের পর তিনি ক্লাব ফেস্টের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, উপপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু মোয়াজ্জেম হোসাইন, সহকারী পরিচালক মো. মাসুম রানা প্রামাণিক ও প্রিয়ন্তি পাল টুম্পা।
দেশীয় সক্ষমতা তৈরিতে গবেষণার গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম।
লেকচারে রিসোর্স পারসন ছিলেন ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি পেট্রোনাসের পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান আইআর. ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
জ্বালানি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা দেশের গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বিকাশে দেশীয় গবেষণা সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
//ডিবিটেক/ এআইএম/এসএমই//





