সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়তে সরকারের পাঁচ অগ্রাধিকার

সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ার তাগিদ

  • বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থা নয়, সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ার আহ্বান
  • নিরাপদ তথ্য বিনিময় ও অভিন্ন ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ
  • আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করবে সরকার

সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ার তাগিদ
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫০  

ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি ও সরকারি সেবা ডিজিটাল করা নয়; বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়িয়ে নাগরিকদের আরও উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করা—এমন মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘কার্যকর ই-গভর্ন্যান্স: বাংলাদেশে ই-সরকার ও ডিজিটাল জনসেবা ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় ডেটা গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল রূপান্তর এবং জাতীয় দায়িত্বশীল ডেটা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আয়োজিত এ সেমিনারের আয়োজন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের অর্থায়নে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেই ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। একই তথ্য নাগরিকদের কাছ থেকে বারবার সংগ্রহ এবং একই ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে তৈরির পরিবর্তে অভিন্ন সক্ষমতা, আন্তঃকার্যক্ষমতা ও জাতীয় ডেটা বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। নাগরিকদের কাছ থেকে একই তথ্য বারবার সংগ্রহ না করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপদ ও অনুমোদিত তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রযুক্তির পাশাপাশি সুশাসনেও গুরুত্ব

মন্ত্রী বলেন, আন্তঃকার্যক্ষমতা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে সুশাসন, অভিন্ন মানদণ্ড, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সরাসরি যুক্ত। তাই একই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা বারবার তৈরি না করে অভিন্ন অবকাঠামো এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

তার মতে, তথ্য বিনিময় হতে হবে নিরাপদ, দায়িত্বশীল এবং সুস্পষ্ট নীতিমালার আওতায়। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি কমিয়ে যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, একজন নাগরিকের কাছে সরকার কোনো বিচ্ছিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর কিংবা ডেটাবেজের সমষ্টি নয়; সরকার একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা। তাই সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোকে একটি সংযুক্ত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সেবায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকের আস্থা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ডেটা ব্যবস্থাপনা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং নিরাপদ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ।

পাঁচ অগ্রাধিকারে ডিজিটাল রূপান্তর

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ আগামী পাঁচ বছরের জন্য সরকারের পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

এসব অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে—আইন ও নীতিমালা, নিরাপদ কানেক্টিভিটি, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনশক্তি ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, নিরাপদ ডেটা বিনিময় এবং উন্মুক্ত এপিআই নিশ্চিত করে তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, স্টার্টআপ খাতে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঠিক নীতি, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেমিনারে সমন্বিত ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সরকারের ক্ষেত্রে ডেটার মালিকানা ও দায়িত্বশীলতা, নাগরিকের আস্থা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপদ তথ্য বিনিময়, ডেটা ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলতা এবং ডিজিটাল প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল সক্ষমতা তৈরির প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি দলের হেড অব ইউনিট ও হেড অব কো-অপারেশন মাইকেল ক্রেইজা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও কার্যকর ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক, ই-গভর্ন্যান্স একাডেমি ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্য ইনগ্রিড টুনেকুর্গ, ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির ডিজিটাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড সলিউশনস কম্পিটেন্স সেন্টারের প্রধান আরভো অট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব ফারাহ শাম্মী এনডিসি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/জেইউআই/এসএমই/এমআইএসটি//