পিউরা ৯০এস প্রো ম্যাক্স রিভিউ: প্রযুক্তি ও শৈলীর যুগলবন্দী
স্মার্টফোনের বাজারে হুয়াওয়ে বরাবরই ক্যামেরার প্রযুক্তি দিয়ে নিজেদের আলাদা প্রমাণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তারা বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ঘরানার ফোন ‘হুয়াওয়ে পিউরা ৯০এস প্রো ম্যাক্স’। প্রিমিয়াম নকশা আর শক্তিশালী ক্যামেরার এই ফোনটি ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারল, তা নিয়েই আমাদের আজকের বিস্তারিত পর্যালোচনা।
নকশা ও পর্দার জাদু
প্রথম দেখাতেই ফোনটি যে কারও নজর কাড়বে। এর পেছনের অংশের মসৃণ ও আধুনিক নকশা ফোনটিকে একটি আভিজাত্য দিয়েছে। ফোনের সামনে রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির একটি বিশাল এবং উজ্জ্বল পর্দা। এই পর্দায় ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির কুনলুন কাচ, যা ফোনটিকে আচমকা হাত থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা স্ক্র্যাচ পড়া থেকে দারুণ সুরক্ষা দেবে। এর পর্দার রিফ্রেশ রেট ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, যার ফলে স্ক্রল করা বা ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা হয় অত্যন্ত মসৃণ। আলো-ছায়ার বৈপরীত্য বা এইচডিআর কনটেন্ট দেখার ক্ষেত্রে এর পর্দার পারফরম্যান্স এক কথায় দুর্দান্ত।
ক্যামেরার চমক: ২০০ মেগাপিক্সেলের বাজিমাত
হুয়াওয়ে পিউরা ৯০এস প্রো ম্যাক্সের মূল আকর্ষণই হলো এর ক্যামেরা বিভাগ। ফোনের পেছনে রয়েছে তিনটি ক্যামেরা। এর মধ্যে মূল ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের, যা আলোর তীব্রতা অনুযায়ী নিজে থেকেই অ্যাপারচার বা আলোকদ্বার পরিবর্তন করতে পারে (এফ/১.৪ থেকে এফ/৪.০)। এর ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকারেও চমৎকার ও স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি রয়েছে এর দূরবীক্ষণ বা টেলিফটো ক্যামেরায়। ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের একটি বিশাল সেন্সর, যা দিয়ে বহুদূরের বস্তুরও নিখুঁত ছবি তোলা যায়। এর সাথে রয়েছে ৪০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড বা প্রশস্ত কোণের ক্যামেরা। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের স্বয়ংক্রিয় ফোকাসযুক্ত ক্যামেরা। হুয়াওয়ের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কল্যাণে ছবির রঙ ও ডিটেইলিং অত্যন্ত বাস্তবসম্মত মনে হয়।
ভেতরের শক্তি ও কার্যক্ষমতা
ফোনটিতে হুয়াওয়ের নিজস্ব ৫ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির কিরিন ৯০৩০এস প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। দৈনন্দিন কাজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা ভারী গ্রাফিক্সের গেম খেলার ক্ষেত্রে ফোনটি কোনো ধরনের ল্যাগ বা ধীরগতির মুখোমুখি হয় না। এটি ১২ জিবি র্যাম এবং ৫১২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এতে রয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব ইএমইউআই ১৬। তবে যারা গুগলের অফিশিয়াল অ্যাপস ও ইকোসিস্টেমে অভ্যস্ত, তাদের জন্য হুয়াওয়ের নিজস্ব অ্যাপ গ্যালারি ব্যবহার করা শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, যদিও বিকল্প উপায়ে প্রায় সব অ্যাপই চালানো যায়। একটি বিষয় একটু খটকা লাগতে পারে, এই বাজেটের ফোনে পর্দার নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার না রেখে পাওয়ার বাটনের সাথে সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া হয়েছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং
স্মার্টফোনটির অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি। সাধারণ ব্যবহারে এটি অনায়াসে দুই দিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। আর চার্জিংয়ের জন্য এতে রয়েছে ১০০ ওয়াটের দ্রুতগতির তারযুক্ত চার্জিং এবং ৮০ ওয়াটের তারহীন চার্জিং প্রযুক্তি। ফলে এত বড় ব্যাটারিও মাত্র কিছু মিনিটের মধ্যেই সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যায়।
একনজরে পিউরা ৯০এস প্রো ম্যাক্স
পর্দা (ডিসপ্লে): ৬.৯ ইঞ্চি ওএলইডি পর্দা, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, কুনলুন গ্লাস সুরক্ষা।
প্রসেসর: কিরিন ৯০৩০এস (৫ ন্যানোমিটার)।
মেমোরি: ১২ জিবি র্যাম এবং ৫১২ জিবি অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ।
পেছনের ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল মূল ক্যামেরা (ভেরিয়েবল অ্যাপারচার) + ২০০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো দূরবীক্ষণ ক্যামেরা + ৪০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা।
সামনের ক্যামেরা: ১৩ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা (অটোফোকাসযুক্ত)।
ব্যাটারি ও চার্জিং: ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ১০০ ওয়াট তারযুক্ত দ্রুত চার্জিং এবং ৮০ ওয়াট তারহীন চার্জিং।
অপারেটিং সিস্টেম: ইএমইউআই ১৬ (EMUI 16)।
নিরাপত্তা: সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ও ফেস আনলক।
হুয়াওয়ে পিউরা ৯০এস প্রো ম্যাক্স নিঃসন্দেহে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন। বিশেষ করে যারা মোবাইল ফটোগ্রাফিকে পেশাদার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান এবং শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ফোনটি তালিকার শীর্ষে থাকবে।
তবে গুগলের অ্যাপস সরাসরি না থাকা এবং কিছু ফিচারের অনুপস্থিতি কেনার আগে মাথায় রাখা প্রয়োজন।





