বিজ্ঞাপন আয়ে ডিজনি-প্যারামাউন্টকে টপকে গেল ইউটিউব
অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব ২০২৫ সালে বিজ্ঞাপন থেকে ৪০.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা হলিউডের চার বৃহৎ স্টুডিও ডিজনি, এনবিসি, প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সম্মিলিত বিজ্ঞাপন আয় ৩৭.৮ বিলিয়ন ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মফেট ন্যাথানসনের নতুন তথ্যের বরাতে দ্য হলিউড রিপোর্টার এই খবর জানিয়েছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।
খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয় ছিল ৩৬.১ বিলিয়ন ডলার, যা চার হলিউড স্টুডিওর সম্মিলিত ৪১.৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম ছিল। এক বছরের ব্যবধানে এই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।
বহু দশক ধরে বড় বাজেটের সিনেমা ও হিট টিভি শো-র মাধ্যমে হলিউডের এই স্টুডিওগুলো বিনোদন জগতে রাজত্ব করে এলেও এখন ঐতিহ্যবাহী টিভির দর্শক কমছে এবং উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে ইউটিউব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। স্টুডিওগুলো তাদের নিজস্ব স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও ইউটিউবের গতির সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত মাসে প্রতিষ্ঠানের মূল কোম্পানি আলফাবেট জানায়, ২০২৫ সালে ইউটিউবের মোট আয় ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর একটি বড় অংশ এসেছে সাবস্ক্রিপশন থেকে, যার মধ্যে রয়েছে ইউটিউব টিভি, ইউটিউব প্রিমিয়াম, ইউটিউব মিউজিক ও এনএফএল সানডে টিকেট। তুলনামূলকভাবে নেটফ্লিক্সের পুরো বছরের আয় ছিল ৪৫.২ বিলিয়ন ডলার।
অবশ্য ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয় মেটার ১৯৬.২ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক কম। তবুও বিজ্ঞাপনদাতারা ইউটিউবের দিকে ঝুঁকছেন কারণ দর্শকরা (বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম) তাদের সময় ব্যয় করছে সেখানেই। চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে একাই ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয় ১১.৪ বিলিয়ন ডলার।
এআই প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ইউটিউব। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের লাইকনেস ডিটেকশন প্রযুক্তি সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের একটি পাইলট গ্রুপের জন্য সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রযুক্তি এআই-নির্মিত ডিপফেক শনাক্ত করে এবং ব্যবহারকারীরা ইউটিউব নীতি লঙ্ঘিত হলে তা সরানোর অনুরোধ করতে পারেন।
ডিবিটেক/বিএমটি





