এআইয়ের সহায়তায় গুগল প্লে থেকে ১৭.৫ লাখ ‘খারাপ অ্যাপ’ ব্লক

এআইয়ের সহায়তায় গুগল প্লে থেকে ১৭.৫ লাখ ‘খারাপ অ্যাপ’ ব্লক
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৪  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ২০২৫ সালে গুগল প্লে স্টোর থেকে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ‘ক্ষতিকর অ্যাপ’ ব্লক করেছে গুগল। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর এনগ্যাজেট।

গুগলের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ৬০ হাজার। ২০২৫ সালে সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘এআই-চালিত বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ দুর্বৃত্তদের খারাপ অ্যাপ প্রকাশের চেষ্টা থেকেই বিরত রাখছে।

গুগল জানায়, এখন প্রতিটি অ্যাপ প্রকাশের আগে ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হয় এবং প্রকাশের পরেও পুনরায় পরীক্ষা চলতে থাকে। সর্বশেষ প্রজন্মের জেনারেটিভ এআই মডেল ব্যবহার করে মানব পর্যালোচকরা দ্রুত ম্যালিশিয়াস প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

এছাড়া ২০২৫ সালে ১৬ কোটি স্প্যাম রেটিং ব্লক করা হয়েছে, যার ফলে ‘রিভিউ বোম্বিং’ (একসঙ্গে অনেক নেতিবাচক রিভিউ) এর শিকার অ্যাপগুলোর রেটিং গড়ে ০.৫ স্টার কমে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। একই বছর সংবেদনশীল ব্যবহারকারী ডেটায় অতিরিক্ত অ্যাক্সেস নেওয়ার চেষ্টা করা ২ লাখ ৫৫ হাজার অ্যাপকে ব্লক করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৩ লাখ।

অ্যান্ড্রয়েডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘গুগল প্লে প্রোটেক্ট’ ২৭ মিলিয়নেরও বেশি নতুন ম্যালিশিয়াস অ্যাপ শনাক্ত করেছে এবং ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে বা সেগুলো চালাতে বাধা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্লে প্রোটেক্টের উন্নত ফ্রড প্রটেকশন এখন ১৮৫টি বাজারে ২৮০ কোটিরও বেশি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে সক্রিয় এবং ২৬ কোটি ৬০ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ ‘সাইড-লোডিং’ (তৃতীয় উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল) প্রচেষ্টা ব্লক করেছে।

গুগলের ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, “ডেভেলপার ভেরিফিকেশন, প্রাক-পর্যালোচনা বাধ্যতামূলককরণ এবং টেস্টিং প্রয়োজনীয়তার মতো উদ্যোগ গুগল প্লে ইকোসিস্টেমের মান বাড়িয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের প্রবেশের পথ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। আমরা উদীয়মান হুমকির মোকাবিলায় এআই-চালিত প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ চালিয়ে যাব এবং অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপারদের নিরাপদ অ্যাপ তৈরির টুল দেব।”

উল্লেখ্য, অ্যাপ নিরাপত্তায় বিনিয়োগের কথা তুলে ধরে অ্যাপ কেনা ও সাবস্ক্রিপশনে তুলনামূলক উচ্চ ফি-এর যৌক্তিকতা দেখায় গুগল। তবে ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো গুগল প্লে-কে একচেটিয়া ব্যবসায়িক কাঠামো বলে অভিযোগ করে আসছে। গত বছর ডেভেলপারদের জন্য বিকল্প পেমেন্ট চ্যানেল চালু করলেও সম্প্রতি ইইউ নিয়ন্ত্রকরা অভিযোগ করেন, গুগল ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের রেগুলেশন পুরোপুরি মেনে চলছে না ।

ডিবিটেক/বিএমটি