পাঁচ মাসে চার আন্তঃনগর ট্রেন থেকে অ্যান্টেনা ও সংযোগযন্ত্র চুরি, টেকসই মডেল তৈরিতে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিএসসিএলের আলোচনা
স্টারলিংক যন্ত্র চুরি, ট্রেনে ওয়াই-ফাই নিয়ে অনিশ্চয়তা
- চার আন্তঃনগর ট্রেনে স্টারলিংক যন্ত্রপাতি ও ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা চুরি
- প্রায় ১৮ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন যাত্রীরা
- চুরি ঠেকাতে টেকসই মডেল তৈরিতে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিএসসিএলের আলোচনা
চলন্ত ট্রেনে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক উচ্চগতির স্টারলিংক ইন্টারনেট পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পাঁচ মাসের মধ্যেই চারটি আন্তঃনগর ট্রেন থেকে একাধিকবার দামি সংযোগযন্ত্র ও ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে দূরপাল্লার ট্রেনে দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হিসেবে চালু করা এই প্রযুক্তিনির্ভর ওয়াই-ফাই সেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
চলতি বছরের ১৩ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেটের পরীক্ষামূলক সংযোগ চালু হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ নির্দেশনায় পরিচালিত এই উদ্যোগে মূল কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)।
প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস—এই চারটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়।
তবে পরীক্ষামূলক সেবা চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই ট্রেনগুলোর বগি ও ছাদ থেকে একাধিকবার স্টারলিংক সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি এবং ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা চুরি হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিশেষ করে উপবন এক্সপ্রেসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্য ট্রেনগুলোতেও একই ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান জানিয়েছেন, চুরি হওয়া কিছু যন্ত্রপাতি গত মাসে দ্রুত নতুন করে স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় তা স্থগিত করা হয়েছে। এখন রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে স্টারলিংক সরঞ্জাম সুরক্ষা ও পরিচালনার জন্য একটি টেকসই মডেল তৈরির কাজ চলছে।
বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি গত ১ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিবকে ফোনে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে চারটি ট্রেনেই স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছিল। এর মধ্যে উপবন এক্সপ্রেসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে এবং অন্য ট্রেনগুলোতেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রযুক্তিগত এই উদ্যোগের কার্যকারিতার প্রাথমিক চিত্র অবশ্য ইতিবাচক। চারটি ট্রেনে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে দূরপাল্লার যেসব রুটে মোবাইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল কিংবা একেবারেই পাওয়া যায় না, সেখানে স্যাটেলাইটনির্ভর ইন্টারনেট যাত্রীদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে।
তবে চলন্ত ট্রেনে স্থাপিত উচ্চমূল্যের স্যাটেলাইট টার্মিনাল, অ্যান্টেনা ও অন্যান্য সংযোগ সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রযুক্তিনির্ভর সেবা টেকসইভাবে চালু রাখা কঠিন হতে পারে। তাই সরঞ্জাম সুরক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ, দায়িত্ব বণ্টন এবং চুরি প্রতিরোধের সমন্বিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটিকে পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
//ডিবিটেক/ এনএপি/ এসএমই/এমআইএস//





