গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও এআই নয়, সিসিটিভি ফুটেজে দ্বিতীয় স্ত্রী

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভাইরাল ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয় বলে নিশ্চিত করেছে দ্য ডিসেন্ট ও রিউমার স্ক্যানার। ভিডিওর তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী হলেও সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক।

গাজী নজরুলের ভাইরাল ভিডিও এআই নয়, সিসিটিভি ফুটেজে দ্বিতীয় স্ত্রী
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৯  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত নয় বলে নিশ্চিত করেছে ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ডিসেন্ট’ ও ‘রিউমার স্ক্যানার’।

ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা দ্য ডিসেন্ট জানায়, ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন। গাজী নজরুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ওই ভিডিওটির স্ক্রিনশট ব্যবহার করে এআই-নির্মিত কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। একইভাবে রিউমার স্ক্যানার জানাচ্ছে, ভাইরাল হওয়া দীর্ঘ ভিডিওটিতে বা এর অডিওতে কোনো ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।

গাজী নজরুলের কথার সত্যায়ন করে মেয়ের বাবা মাসুম বিল্লাহ জানান, ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। ওই দিন তারা মগবাজারের অফিসে গিয়ে রেস্ট নিচ্ছিলেন, সেখান থেকেই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে তার শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি উনার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ পেল, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।”

এদিকে এক ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ (যিনি মরিয়মের মামা) এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। ওবায়দুল্লাহ সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে তার কাছে ৫ লাখ এবং শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না পেয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে নিজের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চরিত্রহননের অপচেষ্টা দাবি করে জড়িতদের বিচার চান তিনি।

তবে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১ জুলাই ধারণ করা হয়েছে। অথচ গাজী নজরুল দাবি করেছেন ঘটনাটি ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই ঘটেছে। এই সময়গত অসঙ্গতি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার কারণ সম্পর্কে ধারণা নেই বলে জানান গাজী নজরুল। বিশেষজ্ঞরা শোবার ঘরের সিসিটিভি ফুটেজ এভাবে প্রকাশ্যে আসাকে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন।
//ডিবিটেক/জেএনও/এনএএম//