১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা চালু: গড়ে ৬২% মামলা কমার তথ্য আইনমন্ত্রীর
১০টি জেলায় ভার্চুয়ালি মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পাইলট প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, মধ্যস্থতার মাধ্যমে পারিবারিকসহ বিভিন্ন আইনের মামলা দায়ের গড়ে ৬২ শতাংশ কমেছে।
ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব (প্রি-কেস) বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তথ্যমতে:
-
পারিবারিক আদালত আইন: মামলা ৩,৫৫৯টি থেকে কমে ১,৭৪৪টিতে নেমেছে (প্রায় ৫১% হ্রাস)।
-
বণ্টন সংক্রান্ত মামলা: সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন মামলা ২,০০১টি থেকে কমে ৬৬১টিতে নেমেছে (৬৬.৯৭% হ্রাস)।
-
প্রিম্পশন মামলা: স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনে ১৭টি থেকে কমে ২টিতে নেমেছে (৮৮.২৪% হ্রাস)।
-
অকৃষি প্রজা আইন: ৩১টি থেকে কমে ১৪টিতে নেমেছে (৫৪.৮৪% হ্রাস)।
-
যৌতুক নিরোধ আইন: ৫,৬০৫টি থেকে কমে ১,৮১০টিতে নেমেছে (৬৭.৭১% হ্রাস)।
-
পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইন: ৪৩টি থেকে কমে ৩৫টিতে নেমেছে (১৮.৬০% হ্রাস)।
-
সর্বমোট প্রভাব: সব মিলিয়ে গড়ে ৬২.০২ শতাংশ মামলা দায়ের হ্রাস পেয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং আদালতে নতুন মামলা দায়ের উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। এই উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।"
তিনি জানান, আদালতে নতুন মামলার প্রবাহ কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও দ্রুত কমিয়ে আনা যাবে। এ সময় তিনি বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচারাধীন যেসব মামলা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য রেফার করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত, লিগ্যাল এইড অফিস ও আইনজীবীদের যৌথ প্রচেষ্টায় আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো সম্ভব।
বিশেষভাবে কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন মাসে মামলাজট দৃশ্যমানভাবে কমানোর আহ্বান জানান এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান।
প্রকল্পে সহায়তার জন্য জাইকা (JICA), জিআইজেড (GIZ) এবং ইউএনডিপি (UNDP)-কে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই কাজকে চাকরির চেয়ে জনসেবা হিসেবে দেখতে হবে, তবে মধ্যস্থতায় কোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'।
//ডিবিটেক/ডিএমআরকে/এমএসআই//





