জাপানের প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের দক্ষ আইটি জনবল হতে পারে নির্ভরযোগ্য অংশীদার

বি-জেট প্রোগ্রামের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জাপানের প্রযুক্তি খাতে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি আইটি বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। টোকিওতে আয়োজিত সেমিনারে ভবিষ্যতে এআই, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জাপানের প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের দক্ষ আইটি জনবল হতে পারে নির্ভরযোগ্য অংশীদার
২২ জুলাই, ২০২৬ ২১:০১  
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৪  

জাপানের প্রযুক্তি খাতে ক্রমবর্ধমান দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ও জাপানের প্রযুক্তি খাত-সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বি-জেট (B-JET) প্রোগ্রাম এবং মিয়াজাকি-বাংলাদেশ মডেল ফ্রেমওয়ার্কের সফল বাস্তবায়নের ফলে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি আইটি বিশেষজ্ঞ জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

২২ জুলাই, বুধবারটোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্রেইন স্টেশন-২৩ এবং জেট্রোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রযুক্তি সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে জাপানের শীর্ষস্থানীয় সিস্টেম ইন্টিগ্রেটর, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে বক্তব্য দেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। তিনি বলেন, জাপানের জনমিতিক পরিবর্তন এবং প্রযুক্তি খাতে দক্ষ পেশাজীবীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ ও মেধাবী তরুণ রয়েছেন। তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাপানের প্রযুক্তি শিল্পের জনবল সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি জাপানের প্রযুক্তি খাত-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

সেমিনারে জাপানি উদ্যোক্তাদের জন্য দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন জেট্রোর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো এবং সুমিতোমো করপোরেশনের পরিচালক তারো কাওয়াচি।

জাপানের প্রযুক্তি বাজারের বর্তমান প্রবণতা, দক্ষ জনবলের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন ওয়ান টেরেস ইনকরপোরেটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাতসুয়া ইশিনাকা।

কারিগরি অধিবেশনে ব্রেইন স্টেশন-২৩ জাপানের প্রতিনিধি ইয়াসুফুমি কাজিউরা এবং পার্টনার ডিরেক্টর এম জে ফেরদৌস বাস্তব কেস স্টাডি উপস্থাপন করেন। তারা দেখান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কীভাবে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব।

সমাপনী বক্তব্য দেন ব্রেইন স্টেশন-২৩-এর প্রতিনিধি কেশো চো এবং এম. জে. ফেরদৌস। পরে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশগ্রহণকারীরা জাপানের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সহযোগিতা, দক্ষ জনবল বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
//ডিবিটেক/আরকেবি/এনএএম//