২০৩৫ সাল নাগাদ ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার চারগুণ বাড়বে!

২০৩৫ সাল নাগাদ ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার চারগুণ বাড়বে!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১২  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের কারণে বিশ্বজুড়ে তথ্য সংরক্ষণাগার বা ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ব্লুমবার্গএনইএফ'-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বা ২০ শতাংশই এককভাবে ব্যবহার করবে এসব ডেটা সেন্টার। যা বর্তমানে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি।

এআই প্রযুক্তির প্রবৃদ্ধি ও বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার কারণে ডেটা সেন্টারগুলোর মোট বিদ্যুৎ ধারণক্ষমতা প্রায় ২০০ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে। এই ক্ষমতার প্রায় অর্ধেকই ব্যয় হবে এআই মডেলের প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং) এবং তথ্য বিশ্লেষণ বা প্রসেসিংয়ের কাজে। বিদ্যুতের চাহিদার দিক থেকে হিসেব করলে ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট এআই চিপের প্রায় ৬৪ শতাংশই থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে তৈরি হচ্ছে সংকট
বিদ্যুতের এই বিশাল চাহিদা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। দেশটির ভার্জিনিয়া থেকে ইলিনয় পর্যন্ত বিস্তৃত মূল বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন পিজেএম ইন্টারকানেকশনের ৩৪ শতাংশ এবং টেক্সাসের এরকট গ্রিডের ২২ শতাংশ বিদ্যুৎই এককভাবে চলে যাবে ডেটা সেন্টারগুলোর পেছনে। চাহিদা ও জোগানের এই বিশাল ভারসাম্যহীনতার কারণে গত এক বছরে বেশ কিছু অঞ্চলে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত প্রভাব
কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, সারা বিশ্বেই এই বিদ্যুতের চাপ ছড়িয়ে পড়ছে। এআই ব্যবহারের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে নতুন করে ১,৯৩৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি করবে ডেটা সেন্টারগুলো। এই নতুন চাহিদার পরিমাণ প্রায় সমগ্র ভারত রাষ্ট্রের পুরো এক বছরের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান।

পূর্বের নানা অনুমানের তুলনায় বর্তমানে বিদ্যুৎ চাহিদার এই বৃদ্ধির গতি অনেক বেশি। ফলে প্রযুক্তি খাতের এই উল্লম্ফনের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুতের দাম সহনীয় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।   সূত্র: টেকক্রাঞ্চ