সামুদ্রিক শৈবাল গবেষণায় নতুন অগ্রগতি
বঙ্গোপসাগরে ৩০ মিলিয়ন ডলারের ভারী খনিজের সন্ধান
- বঙ্গোপসাগরে ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারী খনিজের সন্ধান
- সামুদ্রিক শৈবাল গবেষণায় সাফল্য
- বিসিএসআইআরের নতুন গবেষণা চুক্তি
বাংলাদেশের সমুদ্র গবেষণা, ব্লু-ইকোনমি এবং বৈজ্ঞানিক সেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সেন্ট মার্টিন থেকে মধ্য-উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারী খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক শৈবাল গবেষণা ও চাষে সাফল্য এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) নতুন গবেষণা ও সেবা চুক্তির মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক সম্পদভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, সেন্ট মার্টিন উপকূল থেকে ১৪৭টি সামুদ্রিক শৈবাল (সিওয়িড) প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি নমুনা বিশ্লেষণ করে আগার, ক্যারাজিনান এবং এলজিনেট নিষ্কাশনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। পাশাপাশি টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে শৈবালের চারা উৎপাদন করে মহেশখালী চ্যানেল, রেজুখাল নদী এবং বিওআরআই উপকূলীয় এলাকায় পরীক্ষামূলক ও পাইলট ভিত্তিক চাষ সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারের মতে, এই প্রযুক্তি খাদ্য, ওষুধ ও শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ব্লু-ইকোনমি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে ২০ জুলাই, মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন আশাবাদ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিওআরআই) সাম্প্রতিক গবেষণা কার্যক্রমের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরা হয়।
ব্রিফিংয়ে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেয়া সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সেন্ট মার্টিন থেকে দেশের মধ্য-উপকূল পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় পরিচালিত গবেষণায় ম্যাগনেটাইট, ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন এবং গার্নেটসহ মূল্যবান ভারী খনিজের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী এসব খনিজের সম্ভাব্য গ্রস অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এছাড়া গবেষণায় দেশের মধ্যাঞ্চলীয় উপকূলের পশ্চিমাংশে ব্লু-কার্বন ইকোসিস্টেমে প্রতি একরে প্রায় ১৬০ মেগাগ্রাম এবং পূর্বাংশে প্রায় ১২৪ মেগাগ্রাম কার্বন সঞ্চয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। বিওআরআই-এর হিসাব অনুযায়ী, মহেশখালী চ্যানেল ও নাফ নদীর কার্বন সিংকের আর্থিক মূল্য প্রতি হেক্টরে এক হাজার থেকে এক হাজার ৯৬ মার্কিন ডলার, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই বিসিএসআইআর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, এসকেজেন এবং বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস লিমিটেডের সঙ্গে তিনটি সার্ভিস এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে।
সরকারের মতে, এসব চুক্তির মাধ্যমে বিসিএসআইআর-এর আধুনিক গবেষণাগার ও বৈজ্ঞানিক সুবিধা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত গবেষণা ও পরীক্ষাগার সেবা প্রদান করা হবে, যা দেশের শিল্পোন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
//ডিবিটেক/ইউকেএফআই/এসএমই//





