ভার্চুয়াল বক্তব্য ঐক্যবদ্ধের তাগিদ দিলেন খালেদা জিয়া

ভার্চুয়াল বক্তব্য ঐক্যবদ্ধের তাগিদ দিলেন খালেদা জিয়া
১ জুলাই, ২০২৫ ২০:০০  
১ জুলাই, ২০২৫ ২১:৩১  

প্রায় এক বছর পর ফের ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় সাড়ে সাত বছর পর এবার জনসম্মুখে বক্তব্য দিলেন তিনি।

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সব রাজনৈতিক দল এবং জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের অংশগ্রহণে ১ জুলাই (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তিনি। 

রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে যুক্ত হয়ে বক্তব্যে গুম-খুন বিচার বহির্ভূূত হত্যাকণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের তালিকা করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থার তাগিদ দেন তিনি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নতুন করে গণতিান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দ্রুততার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বোভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে। বীরের এ রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারা যেন বৃথা না যায়। ঐক্যবজার রাখতে হবে।

যে কোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, গ্রেফতার, গুম-খুন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ শাসকগোষ্ঠী। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে।

 লন্ডন থেকে আলোচনা সভা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক ইনসাফভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এখনই সময়। বিএনপি জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চায়।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট পলায়নের পরই আমার প্রথম বক্তব্যে বলেছিলাম- তার মধ্যে ছিল- গণঅভ্যুত্থানে যারা তাদের সন্তান হারিয়েছেন সেই মায়েদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। অনেকেই প্রিয়তম স্বামী ও প্রিয়তম ভাইকে হারিয়েছেন। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে ৫ আগস্ট আরেকটি বিজয় দেখেছে বাংলাদেশ। একজন শহীদ শুধু আপনাদের স্বজন নয়, তারা দেশের গৌরব ও মুক্তিকামী জনতার। তাদের জানাই শ্রদ্ধা।

রাজনৈতিক দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন মানুষ ভোলেনি। তেমনই চব্বিশের যোদ্ধাদেরও জাতি ভুলবে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন স্থাপনা শহীদদের নামে নামকরণের চিন্তা আমাদের আছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের জন্য কিছু ভাবনা তুলে ধরছি। আমরা দেশকে একটি চিরস্থায়ী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই, যেখানে জনগণের হাতে থাকবে সব ক্ষমতা।  

 ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, জাহিদ হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির পর গণমাধ্যমে বা দেশবাসীর সামনে কথা বলার সুযোগ পাননি খালেদা। এর দীর্ঘ সাড়ে ৬ বছর পর  ২০২৪ সালের ৭ আগষ্ট  লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনের জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে বর্ধিত সভায় ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া।