নতুন সাজে রংপুর: একদিনের ‘স্বপ্ন’, বছরের প্রত্যাশা
রংপুর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে উত্তরের আট জেলার প্রবেশদ্বার খ্যাত রংপুর নগরী যেন একদিনের জন্য হলেও নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছিল। নগরজুড়ে যে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন অভিযান চালানো হয়, তাতে চিরচেনা যানজট, ফুটপাত দখল আর ধুলোবালির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছিল নগরবাসী। তবে এই পরিবর্তন যে কেবল একদিনেরই, এই বাস্তবতা নগরবাসীর মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে— এমন […] The post নতুন সাজে রংপুর: একদিনের ‘স্বপ্ন’, বছরের প্রত্যাশা first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainme

রংপুর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে উত্তরের আট জেলার প্রবেশদ্বার খ্যাত রংপুর নগরী যেন একদিনের জন্য হলেও নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছিল। নগরজুড়ে যে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন অভিযান চালানো হয়, তাতে চিরচেনা যানজট, ফুটপাত দখল আর ধুলোবালির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছিল নগরবাসী। তবে এই পরিবর্তন যে কেবল একদিনেরই, এই বাস্তবতা নগরবাসীর মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে— এমন শহর কি সারা বছরই দেখা সম্ভব নয়?
প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে রংপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম চালানো হয়। নগরীর সড়ক ও রোড ডিভাইডারগুলো ধুয়ে-মুছে রং করা হয় এবং ডিভাইডারে লাগানো হয় ছোট ছোট ফুলের গাছ। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের নির্ধারিত সড়কগুলো, বিশেষ করে ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত চলমান সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হয়। নগরীর প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাত দখলমুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়। এসব কাজ তদারকি করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী।
সফরের আগের দিন বিকেল থেকে সফরের দিন দুপুর পর্যন্ত নগরীতে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ফুটপাতে ছিল না দখলকৃত দোকান। জাহাজ কোম্পানি ও পায়রা চত্বরে ছিল না চিরচেনা যানজট। মর্ডাণ মোড়ে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলার নামে কেউ তৈরি করেনি ইচ্ছেকৃত জট। ছিল না ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জটলা। ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত প্রায় বছরখানেকের দুর্ভোগ, সড়ক সংস্কার না করার কারণে ধুলোবালির যন্ত্রণা— এসব সেদিন ছিল না। যানজটে আটকে থাকতে হয়নি কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে।
তবে এই পরিচ্ছন্ন চিত্রই রংপুরের প্রতিদিনের বাস্তবতা নয়। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির চিত্রটি ভিন্ন। রংপুর নগরীর ফুটপাতের বড় অংশজুড়ে বসেছে কাপড়, ফল, সবজি, খাবার, জুতা-স্যান্ডেলসহ নানা পণ্যের দোকান। কোথাও আবার বাঁশ, টিন ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে স্থায়ী কাঠামোও। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর বিনিময়ে প্রভাবশালী একটি চক্র নিয়মিত টাকা আদায় করছে। এমনকি শুধু ফুটপাতের দোকান থেকে প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
নগরবাসীরা বলছেন, নগরের স্টেশন রোড, জাহাজ কোম্পানির মোড়, সিটি বাজার, ধাপ, লালবাগ, শাপলা চত্বর, মেডিক্যাল মোড়, জিলা স্কুল মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত প্রায় পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। শাপলা চত্বর এলাকার বাসিন্দা একরামুল হকের ভাষায়, ‘ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচলের কোনো উপায় নেই’।
যানজটও রংপুরের নিত্যসঙ্গী। নগরে ৫৫ থেকে ৬০ হাজারের বেশি অটোরিকশা চলাচল করলেও অনুমোদন রয়েছে মাত্র সাড়ে আট হাজারের। মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘১০ মিনিটের রাস্তা যেতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগে’। প্রশাসন মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও পরদিনই হকাররা আগের জায়গায় ফিরে আসেন— যাকে নগরবাসী এখন ‘উচ্ছেদ ও পুনর্দখল’-এর চক্র হিসেবে দেখেন।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী নিজেও স্বীকার করেছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো, অনেক হকার জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা করেন। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা না করে শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রিয় রংপুর নগরী সবসময় থাকুক পরিচ্ছন্ন, ফুটপাত-দখলমুক্ত ও যানজটহীন। বিশেষ কোনো উপলক্ষ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এই পরিচ্ছন্নতা হোক প্রতিদিনের অভ্যাস। কারণ, একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর শুধু একদিনের প্রদর্শনী নয়—এটি প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। রংপুরবাসী অপেক্ষায় আছে সেই দিনের, যখন এই নতুন রূপ হবে তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
The post নতুন সাজে রংপুর: একদিনের ‘স্বপ্ন’, বছরের প্রত্যাশা first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





