১৬ বছরের কম বয়সীদেরও এনআইডির পরিকল্পনা, অনলাইনে ভোটার এলাকা বদলের সুবিধা চালু

১৬ বছরের কম বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে অনলাইনে ভোটার এলাকা স্থানান্তর, এনআইডি নবায়ন, জন্মতারিখ সংশোধন ও প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৬ বছরের কম বয়সীদেরও এনআইডির পরিকল্পনা, অনলাইনে ভোটার এলাকা বদলের সুবিধা চালু
২২ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪২  

১৬ বছরের কম বয়সী নাগরিকদেরও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করার সুবিধা চালু করা হয়েছে। এছাড়া জন্মতারিখ সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ১২তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর ও তদূর্ধ্ব নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। কোনো নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হন। এর আগে পর্যন্ত তার তথ্য ‘ডরম্যান্ট’ বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে।

সচিব জানান, তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমিয়ে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পর্যায় থেকে শুরু করা যায় কি না, তা নিয়ে কমিশন পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এনআইডি-সংক্রান্ত সেবাকে আরও সহজ করতে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন এখন থেকে অনলাইনেই করা যাবে। এ সেবার জন্য নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক ফি দিতে হবে।

এছাড়া আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নের ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। সেখানে আবেদনকারীকে তার পারিবারিক পরিচয় বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে, যাতে তথ্য যাচাই ও সমন্বয় সহজ হয়। নবায়নের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হবে।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতাও মাঠ পর্যায়ে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানান আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, যেসব ক্ষেত্রে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদের মাধ্যমে জন্মতারিখ যাচাই করা সম্ভব, সেসব আবেদন আর কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, মাঠ পর্যায় থেকেই নিষ্পত্তি করা যাবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হচ্ছে। আগে বিদেশে বায়োমেট্রিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার পর আবেদন দেশে তদন্তের জন্য পাঠানো হতো। এখন বিদেশে বায়োমেট্রিক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তথ্য সিস্টেমে আপলোড হবে। পরে দেশে তদন্তে তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে কেন্দ্র থেকে সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে নিবন্ধনের সময় ও প্রশাসনিক ধাপ উভয়ই কমবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও বিধিমালায় একগুচ্ছ সংশোধনের প্রস্তাবও চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপির জামিনদার এবং বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের অনুমোদন মিললে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
//ডিবিটেক/ডিএসবি/এসএমই//