জব্দ করা হয়েছে ৪টি দেশি অস্ত্র, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযান চালিয়েছে র্যাব-৭
চট্টগ্রামে ইন্টারনেট অফিসে হামলার মূলহোতা মাইকেলসহ গ্রেফতার ৯
গত ১১ জুলাই ডিডিএন-এর স্বত্বাধিকারীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপে এককালীন ২ কোটি এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসী 'ডেভিড ইমন'।
দাবি পূরণ না করায় ১৩ জুলাই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অফিসে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে কর্মচারীদের বেতনের ৩৫ লাখ টাকা লুট করে।
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার বাকলিয়া এক্সেস রোডে অবস্থিত 'ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)' নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মূলহোতা মাইকেলসহ হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—মূলহোতা মাইকেল রোহেন মিয়া প্রকাশ (৩১), মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আব্দুল মুমিন (৩০), মো. মাসাদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), মো. সানজাত হাসান (১৮), সৈকত হোসেন (১৮) ও মো. সাইফুদ্দিন। এদিকে, ১৫ জুলাই ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আলাদাভাবে আটজনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে শনিবার (১৮ জুলাই) তাদের গ্রেফতার করা হয়। রোববার (১৯ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর কর্মকর্তারা। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত চারটি দেশি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৭ জানায়, গত ১১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ‘ডেভিড ইমন’ নামে এক সন্ত্রাসী প্রথমে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে, ১৩ জুলাই দুপুরের দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, সার্ভার মনিটর, ল্যাপটপসহ অফিসের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নষ্ট করে দেয় এবং কর্মচারীদের বেতন বাবদ রাখা নগদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বাদী হয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ৪০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সাধারণ এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ১৩ জুলাই সংঘটিত এ হামলার ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ৯ জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
//ডিবিটেক/ডিআরপি/এনএন//





