গুণগত সেবা ও অর্থবহ ডিজিটাল সংযোগে জোর

এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপিংয়ে টেলিযোগাযোগ খাত আধুনিকায়নের অঙ্গীকার

  • দেশের ১৯.১০ কোটি মোবাইল ও ১০ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের জন্য সেবার মান ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিতের তাগিদ
  • ফাইভ-জি, স্যাটেলাইট, আইওটি ও স্পেকট্রাম ব্যবস্থার টেকসই নীতি প্রণয়নে জোর দিলেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।
  • ৩৭তম এডব্লিউজি সম্মেলনে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবস্থান জোরদারের আহ্বান।

এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপিংয়ে টেলিযোগাযোগ খাত আধুনিকায়নের অঙ্গীকার
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪২  
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৪  

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পর বর্তমান মূল চ্যালেঞ্জ শুধুই সংযোগ বাড়ানো নয়; বরং অর্থবহ সেবা, সংযোগের উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা, সাশ্রয়ী মূল্য ও গুণগত মান নিশ্চিত করা।

৭  সেপ্টেম্বর, সোমবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ‘৩৭তম এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ (এডব্লিউজি-৩৭)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

সম্মেলনে মন্ত্রী দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নেটওয়ার্ক পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেট সংযোগ চালু রয়েছে, যার মধ্যে ১০ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক ফোর-জি সেবা ব্যবহার করছেন। এই বিশাল ডিজিটাল ইকোসিস্টেম সুরক্ষায় ৪৯ হাজারের বেশি ফোর-জি সাইট, ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ফাইভ-জি (5G), স্যাটেলাইট সংযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) এবং উদীয়মান ওয়্যারলেস প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে সঠিক ও দূরদর্শী স্পেকট্রাম নীতি প্রণয়ন করা জরুরি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে। এলক্ষেই ঢাকায় এডব্লিউজি-৩৭ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন টেলিযোগাযোগ ভাবনার সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সংযোগ ঘটার পাশাপাশি আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক, কমিশনারবৃন্দ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, এপিটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. মাসানোরি কন্দ (Dr. Masanori Kondo) এবং এপিটির সভাপতি ড. দিজাং কিম (Dr. Daejung Kim) প্রমুখ। 

সচিব বিলকিস জাহান রিমি তার বক্তব্যে বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল টেলিযোগাযোগ খাতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতি ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হবে। কার্যকর রেডিও যোগাযোগব্যবস্থা গঠন, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরে এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
//ডিবিটেক/এমএবিপি/এসএমই/এমআইএস//